প্রায় ২.৫ বছর ধরে বিবাহিত ৷ কিন্তু এই দম্পতি তাদের সম্পর্ক বেশিরভাগ সময় গোপন রেখেছিল। এক মর্মান্তিক ঘটনায়, বেঙ্গালুরুর কোথানুর এলাকায় এক তরুণ টেকি দম্পতি অল্প সময়ের ব্যবধানে আত্মহত্যা করেছেন ৷ এই ঘটনা তদন্তকারীদের দম্পতির মৃত্যুর আগের শেষ মুহূর্তগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে বাধ্য করেছে। ভানু চন্দর রেড্ডি, (৩২) মঙ্গলবার সকালে দম্পতির ফ্ল্যাটের তালাবদ্ধ বেডরুমের ভিতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কয়েক মিনিট পরে, তাঁর স্ত্রী, বিবি শাজিয়া সিরাজ (৩১) একই আবাসিক কমপ্লেক্সের ১৮ তলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার অভিযোগে মারা যান। পুলিশের মতে, শাজিয়া তাঁর নাইট শিফট থেকে সকাল ৭:৩০টার দিকে বাড়ি ফিরেছিলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন তাঁর স্বামী কোনও সাড়া দিচ্ছেন না। চিন্তিত হয়ে, সে বিল্ডিংয়ের সিকিউরিটি স্টাফকে জানায়, জানিয়ে দেয় যে বেডরুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল। গার্ডরা দরজা ভেঙে খুলে দেয় এবং ভেতরে রেড্ডির দেহ খুঁজে পায়। ঘটনাস্থলের একটা টেবিল থেকে একটা সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়।
advertisement
রেড্ডির পরিবারের মতে, তিনি আমেরিকায় একটা ছোট বাড়ি কিনেছিলেন এবং তেলঙ্গানাতে তাঁর পরিবারের জন্য আরেকটা বাড়ি বানিয়েছিলেন। তবে, AI-এর কারণে, তিনি চাকরি হারিয়েছিলেন এবং তার জন্য ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি যখন আরেকটা চাকরি পেতে ব্যর্থ হন, তখন তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছিল। তবে তাঁর পরিবার এবং স্ত্রী তাঁকে সমর্থন করেছিলেন ৷
স্বামীর ঝুলন্ত দেহ দেখে নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি। স্বামীর দেহ উদ্ধারের কয়েক মুহূর্ত পরই ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন স্ত্রীও। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। কর্মরত ছিলেন বেঙ্গালুরুতে। জানা গিয়েছে, তেলঙ্গানার সিদ্দিপেটের বাসিন্দা ভানু চন্দর রেড্ডি পেশায় একজন সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। কর্মসূত্রে ছিলেন বেঙ্গালুরুতে। সোমবার নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। তাঁর স্ত্রী বিবি শাজিয়া সিরাজও বেঙ্গালুরুতে এক নামকরা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করতেন। বাড়ি এসে স্বামীর ঘরের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হয় তাঁর। বার বার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া মেলেনি। তখন ওই আবাসনের নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রতিবেশীদের ডাকেন শাজিয়া। সকলে মিলে এসে দরজা ধাক্কা মেরে ভেঙে ফেলেন। দেখেন ঘরের সিলিং থেকে ঝুলছে ভানুর দেহ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শাজিয়া আবাসনের ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ দেন।
