নয়াদিল্লি: পথকুকুর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল৷ প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সেই সমস্ত সওয়ালই কার্যত খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট৷ পথকুকুর সংক্রান্ত সমস্যা ঘিরে একমুখী সমাধানের পক্ষে শীর্ষ আদালতে শুক্রবার একাধিক সওয়াল করছিলেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের আইনজীবী৷ তা শুনে একের পর এক তা খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট৷ জানায়, ‘‘আপনি বাস্তব থেকে অনেক দূরে৷’’
advertisement
সম্প্রতি, রাস্তা, রেল স্টেশন, হাসপাতাল, স্কুল, সব জায়গা থেকেই পথকুকুরদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ তবে পথকুকুরদের সমস্যা মেটানোর জন্য তাদের নিজেদের ‘এলাকা’ থেকে সরিয়ে ফেলা উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নয় বলে আদালতে জানান শর্মিলা ঠাকুর৷ তা প্রমাণ করতে বেশ কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরেন তাঁর আইনজীবী৷
সুপ্রিম কোর্টে শর্মিলা ঠাকুরের আইনজীবী জানান, ‘‘এমন অনেক কুকুর থাকে, যাঁদের সত্যিই সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন রয়েছে৷ তবে, সাধারণ নিরীহ পথকুকুর এবং আগ্রাসী পথকুকুরদের মধ্যে পৃথকীকরণ প্রয়োজন৷ যেমন, AIIMS -এ ‘গোল্ডি’ নামের একটি কুকুর আছে৷ বহু বছর সে ওখানেই থাকে৷ কারও ক্ষতি করে না৷’’
সেই উদাহরণ খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা জানায়, ‘‘ওই কুকুরটিকে কি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারেও নিয়ে যাওয়া হয়? যে কোনও পথকুকুরদের গায়ে টিক (এক ধরনের পোকা) থাকে৷ সেই কুকুর যদি হাসপাতালে থাকে, তার ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে৷ আপনি বাস্তব থেকে অনেক দূরে৷ হাসাপাতালে কুকুরের থাকাকে মহিমান্বিত করবেন না৷’’
এছাড়া, যে সমস্ত কুকুর আগ্রাসী বা কারওকে কামড়েছে, তেমন কুকুরদের আলাদা রঙের কলার পরানোর কথাও বলেন শর্মিলা ঠাকুরের আইনজীবী৷ জানান, জর্জিয়া, আর্মেনিয়ার মতো দেশে এই ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে৷ ওই সমস্ত দেশের নাগরিকের সংখ্যার তুলনা টেনে আইনজীবীর সেই দাবিও খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট৷
আরও পড়ুন: মুখ দিয়ে গল গল করে ঝরছে রক্ত! গণবিক্ষোভের ‘মুখ’ এখন এই বৃদ্ধা, আগুন জ্বলছে ইরানে
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, রাস্তা থেকে সমস্ত পথকুকুরদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি৷ পথকুকুরদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে৷
শর্মিলা ঠাকুর তাঁর আইনজীবী মারফত অবোলা পথকুকুরদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন, ‘‘পথকুকুরদের এই সমস্যার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া উচিত৷ অ্যানিমাল বার্থ কন্ট্রোল (এবিসি)-এর নিয়ম ফলপ্রুফ না-ও হতে পারে৷ তাই এটা খতিয়ে দেখা দরকার৷ এরউত্তর হল বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং জায়গা বিশেষে সমাধানের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা৷ তারপরে পথকুকুরদের তুলে চিকিৎসা করিয়ে তারপর নিজের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া উচিত৷’’
সুপ্রিম কোর্টে গত বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছিল যে ভারতের সমস্ত রাস্তা থেকে পথকুকুরদের সরাতে ২৬, ৮০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে৷
