মালদহের কালিয়াচকের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ৷ আদালত তাদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-কে হস্তান্তরিত করার নির্দেশ দিয়েছে এদিন৷ পাশাপাশি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চের কটাক্ষ, পশ্চিমবঙ্গে আমলাতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সচিবালয় ও সরকারি দফতরগুলিতে রাজনীতি আনা হচ্ছে।
advertisement
ঘটনার দিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন না ধরায় বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে তিরস্কার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এটিকে জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে বেঞ্চ তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের টানা ৯ ঘণ্টা ঘেরাও করার ঘটনা ঘটে৷ যার পরের দিনই বিষয়টি নিয়ে তীব্র নিন্দা করেন এবং ক্ষোভপ্রকাশ করেন দেশের প্রধান বিচারপতি৷
এই ঘটনার পরে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এনআইএ বহু ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, এই বিক্ষোভ পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় প্রায় একই সময়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় এটি একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তকারীরা পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলোও খতিয়ে দেখছেন, কারণ প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ায় বিলম্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা আর ‘তাঁর হাতে’ নেই, নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর থেকে কমিশনের হাতেই রয়েছে দায়িত্ব৷ ওই দিন জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের এক জনসভায় তিনি বলেছেন, ‘‘মুখ্য সচিব এবং ডিজিপি আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। যেহেতু আমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এখন আপনাদের দায়িত্ব৷ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি নির্বাচন কমিশনের নিন্দা জানাই৷”
মমতা দাবি করেছেন যে, বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পুলিশি পদে নিজেদের কর্মকর্তাদের বসিয়ে কার্যত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। মমতার কথায়, “আমার সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমি এমন নির্বাচন কমিশন আগে কখনও দেখিনি৷”
