Supreme Court on SIR: তিনজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং বিচারকদের নিয়ে কমিটি গঠন! এবার শুরু ট্রাইব্যুনাল, কীভাবে হবে ভোটার হওয়ার বিচার? নতুন নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
- Reported by:Maitreyee Bhattacharjee
- news18 bangla
- Published by:Satabdi Adhikary
Last Updated:
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি জানান, যদি অ্যাপিলেট কোর্টের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আবার তড়িঘড়ি করে কাজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তাঁরা সেটার পক্ষে নন। তিনি আরও বলেন যে, এসআইআরের নিরপেক্ষ বিচার হওয়া উচিত এবং এত বিপুল সংখ্যক বিচারকাজ শেষ করার জন্য সব বিচারিক কর্মকর্তাদের প্রতি তারা কৃতজ্ঞ।
নয়াদিল্লি: এসআইার প্রক্রিয়ায় অ্যাডজুডিকেটেড লিস্ট অর্থাৎ বিবেচনাধীন ভোটারদের কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে আজ, সোমবারের মধ্যেই৷ সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি লিখে রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম৷ এদিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি চলাকালীন দেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, প্রধান বিচারপতির তরফে আজ একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা ০৪মিনিট পর্যন্ত ৫৯ লক্ষ ১৫ হাজার নাম অ্যাডজুডিকেশন যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এখনও পর্যন্ত তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তিনি জানান, ‘‘মালদায় ৮ লক্ষেরও বেশি নাম অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় ছিল। এত ঘেরাও সত্বেও গতকাল রাতে শেষ হয়েছে।’’ অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে আবেদনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানানো হয় আদালতে৷ সব মিলিয়ে অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় থাকা ভোটারদের ক্ষীণ হলেও আশা জিইয়ে রইল। যদিও ট্রাইব্য়ুনালের কাজে কোনও সময় বেঁধে দিতে চায়নি সর্বোচ্চ আদালত। ফলে ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পরে নতুন করে নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ৷
শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগটি বলেন, ‘‘আপনারা অফিস তৈরি করছেন, আপনারা নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছেন। তিনি যদি সঙ্গে সঙ্গে রিসিট দিয়ে দিতে পারেন।’’ ট্রাইব্যুনালে বিচারের প্রক্রিয়া কেমন হবে তা স্থির করতে নতুন নির্দেশ দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি৷ বলেন, ‘‘আমরা সিনিয়র অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করছি। তাঁরা ঠিক করবেন প্রসিডিওর কী হবে৷’’
advertisement
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আপিল করেন, ‘‘সবাই যেন সমান সুযোগ পান। সওয়ালের।’’ বিচারপতি বাগচি আশ্বস্ত করেন আইনজীবীকে৷
advertisement
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল নিজ্দের মতো প্রসিডিওর ঠিক করতে পারবেন। তাঁরা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ফেয়ার অপরচুনিটি দেবেন। ব্যক্তিগত হিয়ারিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে আমাদের কাছে— ইউনিফর্মিটি আনার জন্য একটি প্রসিডিওর অ্যাডজুডিকেশনের আগে তৈরি করা দরকার। তিনজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং বিচারকদের নিয়ে কমিটি গঠন করার অনুরোধ করা হচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে। আগামিকালের মধ্যে কমিটি পরশুর মধ্যে তাঁদের প্রসিডিওর ঠিক করুন যাতে দ্রুততার সঙ্গে আবেদন গ্রহণ করতে পারে ট্রাইবুনাল। ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং বিচারপতিদের অ্যাকাউন্ট নম্বর শেয়ার করতে বলা হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে। যাতে অনারারিয়াম দ্রুত দিতে পারে কমিশন। অফলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও রিসিট দিতে হবে৷’’
advertisement
এদিনের শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচি বলেন, ‘‘আমরা নতুন নথি গ্রহণের ঝুঁকি কী জানি। এই পরিস্থিতিতে যদি আমরা নথি নেওয়ায় বাধা দিই, তাহলে সেটা চ্যালেন্জ হবে। তাই আমরা অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ বিচারপতিদের উপর দায়িত্ব ছাড়ছি৷ কীভাবে ট্রাইবুনাল ফাংশন করবে তার প্রসিডিওর ঠিক করতে৷ ১৯৯০-১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ২০২৪-২৫ সালে গণ জন্ম শংসাপত্র জারি করেছেন আপনারা। সেটা তো সন্দেহজনক মনে হবেই৷ যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের প্রথম বক্তব্য হল তাঁদের নাম কেন বাদ তার কারণ জানা নেই। আমরা তো সেই জন্যই তো বলেছি কারণ জানানোর জন্য।’’
advertisement
মমতার আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতকে জানান, ‘‘৪৪ লাখ ভোটারের নথি দেখাচ্ছে ৫৫% ইনক্লুড হয়েছে। ৪৫% বাদ গিয়েছে। বাদ যাওয়ার হার খুব বড়। ইতিমধ্যেই ৭ লক্ষ্রও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এখনও ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করেনি সেভাবে। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে আবেদনের নথি জমা দেওয়ার জন্য। প্রথম দফার ভোটের নমিনেশন জমার শেষ দিন ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ৯ এপ্রিল। আমরা অনুরোধ করছি ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইবুনাল তাঁদের নির্দেশ শেষ করুক এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ১৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হোক। নির্বাচনের ৫ দিন আগে। একই সঙ্গে আমরা আবেদন করছি, ম্যাপড ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হোক৷’’
advertisement
উত্তরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি জানান, ‘‘ আমরা অ্যাপিলেট কোর্টের উপর চাপ দিলে আবার হেস্টি একসারসাইজ হয়ে যাবে। আমরা সেটার পক্ষে নই। আমরা মনে করি এসআইআরের নিরপেক্ষ অ্যাডজুডিকেশন হওয়া উচিত। আমরা কৃতজ্ঞ সব জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছে, যে তাঁরা এত বিপুল অ্যাডজুডিকেশন শেষ করেছে৷’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘ আমরা বলছি ট্রাইবুনাল অবিলম্বে শুরু হওয়া উচিত।’’
advertisement
তবে বিচারপতি বাগচি জানান, ‘‘আমরা কোয়ালিফাইং ডেট সরানোর প্রস্তাবের পক্ষে নই। একই সঙ্গে একটা ভেরিফিকেশন হওয়া উচিত। নিয়ম অনুযায়ী, অনেক আগে তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। আমরা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা তৈরির দন্য সেই সময়টি এগিয়েছি। আমরা ট্রাইবুনালের কাজে তড়িঘড়ি করতে পারি না। আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সেটা এক থেকে দু মাস সময় লাগবে। কিন্তু তাঁরা ম্যাপড ছিলেন বলেই তাঁদের অনুমতি দেওয়া যায় না। ’’
Location :
New Delhi,New Delhi,Delhi
First Published :
Apr 06, 2026 5:42 PM IST









