কুলারের দাম শুনেই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ওই ছাত্র। তবে হাল ছাড়েননি। প্রচণ্ড গরম থেকে বাবা-মাকে স্বস্তি দিতে হবে, এই ভাবনাই ছিল তাঁর মাথায়। তাই বাড়ি ফিরেই শুরু করে দেন কাজ। পড়ে থাকা কিছু বাতিল জিনিস দিয়েই কুলার তৈরি করার কাজ শুরু করে দেন তিনি। সঙ্গে অবশ্য কিনে নিতে হয়েছে সামান্য কিছু সরঞ্জাম।
advertisement
অবশেষে সামান্য স্বস্তির মুখ দেখেছেন তাঁর বাবা, মা। আর ওই যুবককে নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিহারের পূর্ণিয়া জেলার ছাত্র মহম্মদ আহমেদ রাজা। ইন্টার ক্লাসের ছাত্র তিনি। বলেন, ‘বাড়িতে এই কুলারটি তৈরি করতে আমার এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়িতেই ছিল বাতিল জিনিসের মধ্যে। আর কিছু কিনতে হয়েছে।’ তিনি জানান, প্রায় দেড় মাস প্রচণ্ড গরমে কষ্ট পাচ্ছিলেন তাঁর বাবা, মা। অথচ, একটা কুলার কিনে আনার মতো সামর্থ্য তাঁদের নেই। কী করা যায় ভাবতে ভাবতেই তিনি বাড়িতে কুলার তৈরি করে ফেলার কথা মনস্থ করেন।
আরও পড়ুন, AC-কুলারের অনেক দাম! এই চাদরে বিছানা থাকবে ঠান্ডা, ঘুমোতে পারবেন বিরাট আরামে
আরও পড়ুন, হাওয়ায় উড়ল সবুজ আবীর, ফলতায় তৃণমূলের দখলে পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েত
রাজা জানিয়েছেন, তিনি প্রায় দু’দিনের পরিশ্রম করে এই কুলারটি তৈরি করেছেন বাড়িতেই। বাড়ির ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি করা এই যন্ত্র এখন বাড়ির সকলকেই ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে।
ভবিষ্যতে রাজা প্রযুক্তিগত বিষয়েই পড়াশোনা করতে চান। তিনি বলেন, ‘সরকারি সাহায্য পেলে সাধারণ মানুষের জন্য আরও ভাল কিছু করার চেষ্টা করতে পারি আমরা।’ রাজার বাবা শেখ মুসলিম ও মা নাসিমা খাতুন গর্বিত তাঁদের ছেলেকে নিয়ে। তাঁরা বলেন, ‘বাবা, মায়ের কষ্ট দেখতে না পেরে আমাদের ছেলে এসব করে ফেলেছে। ওর দক্ষতার তারিফ করতেই হয়।’ শুধু পরিবার নয়, রাজার দক্ষতার তারিফ করতে প্রতিবেশীরাও ভিড় করেছেন তাঁদের বাড়িতে।
