ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের বিজয়নগর জেলায়৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অক্ষয় কুমার তার বাবা ভীমরাজ, মা জয়লক্ষ্মী এবং ১৮ বছরের বোন অমৃতাকে খুন করেছেন। পুলিশ এখন এই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত অনার কিলিং (সম্মানরক্ষার নামে হত্যা) হিসেবে তদন্ত করছে। পরিবারটি গত কয়েক বছর ধরে বিজয়নগর জেলার কোট্টুরু শহরের একটি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করছিল। খুনগুলি ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে ২৭ জানুয়ারি।
advertisement
থিলকনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অক্ষয় জানতে পারেন যে তাঁর বোন অমৃতা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা। তদন্তে উঠে এসেছে, অমৃতার প্রেমিক ভিন্ন জাতের হওয়ায় এই সম্পর্কের তীব্র বিরোধিতা করতেন অক্ষয়। পুলিশের দাবি, বাবা-মা অমৃতাকে জোর করে গর্ভপাত করাতে রাজি হননি। পরিবারের এই সিদ্ধান্তে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অক্ষয়। তাঁর অভিযোগ ছিল, পরিবারের মধ্যে তাঁর মতামতের কোনও গুরুত্ব নেই এবং অমৃতা পরিবারের “সম্মান নষ্ট করেছে”।
তদন্তকারীদের মতে, এই ক্ষোভ থেকেই অক্ষয় ঠান্ডা মাথায় খুনের পরিকল্পনা করেন এবং বাবা, মা ও বোন—তিনজনকেই হত্যা করেন। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বাড়ির মধ্যেই মৃতদেহগুলি পুঁতে ফেলা হয়। খুনের পর, ২৯ জানুয়ারি অক্ষয় বেঙ্গালুরু যান এবং সন্দেহ এড়াতে থিলকনগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবা-মা ও বোন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে অক্ষয় ‘দৃশ্যম’ ছবি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন অভিযুক্ত। থ্রিলার ঘরানার এই বিখ্যাত মালয়লম ছবি থেকে পরে হিন্দিতেও সিনেমা তৈরি হয়েছে৷ তিনি জয়দেব হাসপাতালের সামনে ছবি তুলে দেখানোর চেষ্টা করেন যে তিনি বেঙ্গালুরুতে পরিবারের খোঁজ করছিলেন। পাশাপাশি বাসের টিকিট সংগ্রহ, মোবাইল নম্বর বদল এবং ভুয়ো লোকেশন শেয়ার করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রথমদিকে পুলিশ অমৃতার সন্ধানেই জোর দেয়, কারণ জানা গিয়েছিল তিনি অন্তঃসত্ত্বা। বেঙ্গালুরুর একাধিক হাসপাতালে তল্লাশি চালানো হয়, তিনি ভর্তি আছেন কি না বা কোনও বিপদের শিকার হয়েছেন কি না তা জানতে।
তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অক্ষয়ের কথাবার্তায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কল ডিটেল রেকর্ডে দেখা যায়, যেসব ফোন নম্বর নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের বলে দাবি করা হচ্ছিল, সেগুলির লোকেশন অভিযুক্ত অক্ষয়ের সঙ্গেই চলাফেরা করছিল। জেরার মুখে অক্ষয় বিভিন্ন নম্বর দেন, যার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় রেজিস্ট্রেশন করা স্প্যাম নম্বরও ছিল। তিনি বারবার ফোন বন্ধ করে দেন, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। টানা জেরার পর শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে অক্ষয় খুনের কথা স্বীকার করে নেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্বীকারোক্তির পর পুলিশ কোট্টুরু এলাকার বাড়িতে গিয়ে মাটি খুঁড়ে তিনটি দেহ উদ্ধার করে। এছাড়াও পুলিশ খতিয়ে দেখছে, অমৃতার প্রেমিককেও খুন করা হয়েছে কি না, কারণ ওই যুবক বর্তমানে নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।
