মালদহের ইংরেজবাজার ব্লকের কাটাগড় এলাকায়, আমবাগানের মাঝে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনা একসময় ছিল ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র। ইতিহাসবিদদের মতে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবদের দ্বারা নির্মিত এই নীলকুঠি। নীলকুঠির পাশ দিয়েই একসময় নদী প্রবাহিত হত। সেই নদীপথেই চলত নীলের বাণিজ্য। জাহাজে করে নীল রফতানি হত বিভিন্ন স্থানে। অর্থাৎ, এই কুঠিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল এক বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো।
advertisement
ইতিহাস গবেষক এম আতাউল্লাহ জানান, “হেনরি ক্রেইটন নামক এক সাহেব এই নীলকুঠির ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। বাণিজ্যিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি একজন ভাল চিত্রশিল্পী ছিলেন। সেই সময় তিনি নীল চাষের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রাচীন গৌড় ও পাণ্ডুয়ার ধ্বংসাবশেষ স্থাপত্যের খোঁজ পান। এবং গৌড় ও পাণ্ডুয়ার ঐতিহাসিক স্থাপত্য গুলির ছবি এঁকে লিপিবদ্ধ করেন।”
কিন্তু দুঃখের বিষয়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ সেই ঐতিহাসিক নীলকুঠি জঙ্গল ও আগাছায় ঢেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে। বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই স্থাপনা এখন ভগ্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে অবহেলায়। ইতিহাসবিদদের দাবি, জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। নইলে অমূল্য অতীতের এই অধ্যায় একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে সময়ের অতলে।
জিএম মোমিন





