এই মামলাটি দায়ের করেছে ইডি। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা Indian Political Action Committee (আই-প্যাক)-এ জানুয়ারির শুরুতে চালানো তল্লাশির সময় রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের তরফে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ইডি-র দাবি, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক আধিকারিকের ভূমিকা রয়েছে।
বিচারপতি পি কে মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির সময় আদালত বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয় ইডি-র পৃথক আধিকারিকদের দায়ের করা আবেদনের ওপর, যেখানে তাঁদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন, “ইডি সংস্থা হিসেবে নয়, বরং যেসব আধিকারিকের বিরুদ্ধে অপরাধ হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের মৌলিক অধিকার নিয়ে ভাবুন। নইলে মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “শুধু ইডি-ইডি বললে চলবে না, দ্বিতীয় পিটিশনের কথাও মাথায় রাখতে হবে।”
advertisement
আরও পড়ুন: তালিকা প্রকাশ্যে, কত নাম বাদ গেল SIR সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায়? জানুন কী দাবি কমিশনের
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি দেন, এই ক্ষেত্রে ইডি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদন করতে পারে না, কারণ এর জন্য আলাদা আইনি প্রতিকার রয়েছে। তাঁর কথায়, “কোনও সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া মানেই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন নয়। তা হলে প্রত্যেক পুলিশ আধিকারিকই ৩২ অনুচ্ছেদে আবেদন করতে শুরু করবেন।”
তিনি আরও বলেন, তদন্ত চালানো কোনও মৌলিক অধিকার নয়, বরং এটি একটি আইনি ক্ষমতা। সেই ক্ষমতা লঙ্ঘিত হলেও তা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা যায় না। তবে আদালত এই যুক্তিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। বেঞ্চ জানায়, ইডি আধিকারিকদের কাজে বাধা এবং তার প্রভাব আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর তৃণমূলের সাক্ষাৎ-অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, কারণ কী?
এদিকে, আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শুনানি স্থগিত করার আবেদনও খারিজ করে দেয় আদালত। বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট বলেন, “আমরা নির্বাচনের অংশ হতে চাই না, আবার কোনও অপরাধেরও অংশ হতে চাই না। আদালতের সময় সম্পর্কে আমরা সচেতন।” মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা এবং তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে কি না, সেই প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের দিকে নজর রয়েছে।
