সংশোধনী অনুযায়ী, রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের আইনি স্বীকৃতি পেতে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে সেই পরিচয়পত্র দেওয়া হবে নির্দিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে। এই বোর্ডের নেতৃত্বে থাকবেন চিফ মেডিক্যাল অফিসার বা ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া যেতে পারে।
যুদ্ধ আবহে ক্রমবর্ধমান সংকট! মোদির সঙ্গে ফোনে কথা হল ট্রাম্পের, কী কী নিয়ে আলোচনা?
advertisement
সরকারের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থা পরিচয় নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করবে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি প্রকল্প পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও বৈষম্য রোধে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এছাড়াও বিলে বলা হয়েছে, পরিচয় শংসাপত্রের ভিত্তিতে রূপান্তরকামী ব্যক্তিরা জন্ম সনদসহ অন্যান্য সরকারি নথিতে নিজেদের নাম পরিবর্তন করতে পারবেন।
তবে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মেডিক্যাল যাচাই বাধ্যতামূলক করা সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নালসা রায়ের পরিপন্থী, যেখানে স্ব-পরিচয়ের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মতে, এতে প্রক্রিয়াটি আরও জটিল ও আমলাতান্ত্রিক হয়ে উঠবে এবং অনেক রূপান্তরকামী মানুষ আইনি স্বীকৃতি পেতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
একই সুরে আপত্তি তুলেছেন বিভিন্ন কর্মী ও মঞ্চের প্রতিনিধিরাও। তাঁদের বক্তব্য, নতুন বিলের ফলে রূপান্তরকামী-সহ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অধিকারের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নালসা রায় (NALSA judgment) কার্যত খর্ব হচ্ছে। দেবাংশী বিশ্বাস চৌধুরী ও শান চৌধুরীদের দাবি, সংশোধিত আইনে ব্যক্তির নিজের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের অধিকার আর বাস্তবে বজায় থাকছে না।
যদিও এই সমালোচনার জবাবে সরকারের বক্তব্য, একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করে কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অপব্যবহার রোধ করাই এই সংশোধনের লক্ষ্য। এবার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করা হবে, যেখানে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বোর্ডের নেতৃত্বে থাকবেন চিফ মেডিক্যাল অফিসার বা ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার। প্রয়োজনে জেলা শাসক অতিরিক্ত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবেন।
