বেশ কয়েকদিন আগেই প্রতি বছরের মতো রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তৃণমূল সাংসদদের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতঃরাশে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়৷ যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, দলের সংখ্যালঘু সাংসদরা এই সময় রোজা রাখেন৷ তাঁরা প্রাতঃরাশে যোগ দিতে পারবেন না৷ তাই দলের কোনও সাংসদই রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে প্রাতঃরাশে যোগ দেবে না বলে জানিয়ে দেয় দল৷ রমজান মাসে কেন রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণ জানালেন, সেই প্রশ্ন তুলে দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠিও লেখেন তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হক৷ পরে একই প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন সাখেত গোখলেও৷
advertisement
দল এই অবস্থান নিলেও এ দিন সকালে প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতঃরাশে যোগ দেন৷ এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীতে তৃণমূলের অন্যান্য সাংসদদের মধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি৷ দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কেন সৌগত রায় রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতঃরাশে যোগ দিলেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে৷
লোকসভায় তৃণমূলের উপ নেতা শতাব্দী রায় বলেন, ‘দিদি বুঝবেন। সৌগতদা যে কাজগুলি করেন, সেগুলি দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে কতটা মেলে, জানি না।’ বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গাও কটাক্ষ করে বলেন, ‘সৌগত রায় মনে হয় দলের কথা মানছেন না।’
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে প্রাতঃরাশে যোগ দিয়ে কোনও দলবিরোধী কাজ করেননি সৌগত রায়৷
তৃণমূল সংসদীয় দলের দাবি, রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ মেনে যাওয়া হবে কি না তা প্রত্যেক সংসদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সাংসদদের কোন নির্দেশ বা হুইপ দেওয়া হয়নি। দলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার দু’টি আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। কোনও গ্রুপেই এ বিষয়ে কোন মেসেজ দেওয়া হয়নি। সৌগত রায় ছাড়া দলের অন্য কোনও সাংসদ রাষ্ট্রপতির প্রাতঃরাশের আমন্ত্রণে যাননি। আমন্ত্রণে যোগ দেওয়ার সৌগত রায়ের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি সৌগত রায়৷
প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগে শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ রাজ্যের আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি৷ এর পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কয়েক জন সাংসদকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাইতে নির্দেশ দেন৷ রাজ্যে আদিবাসীদের জন্য কী কী কাজ হয়েছে, তা রাষ্ট্রপতিকে জানানোর জন্য দলের সাংসদদের বলেন তৃণমূলনেত্রী৷ এর পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দু বার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে দু বার চিঠি দেওয়া হয়৷ কিন্তু প্রথম চিঠির উত্তরে রাষ্ট্রপতি ভবন জানায়, সময়ের অভাবে রাষ্ট্রপতি তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না৷ দ্বিতীয় চিঠির কোনও উত্তরই দেওয়া হয়নি৷ এর পর ফের রাষ্ট্রপতির সময় চেয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তৃতীয় চিঠি দেওয়া হয়েছে৷
