বিশেষভাবে সম্পদসমূহের ব্যাপক সংস্কার এবং কোচিং স্টকের আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো পরিচালনগত প্রস্তুতি, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও পরিচ্ছন্নতার মানকে আরও উন্নত করেছে ৷ যা সুরক্ষা, দক্ষ এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক রেল পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অঙ্গীকারকে সুদৃঢ় করেছে।
advertisement
পরিচালনগত সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রথমের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। কামাখ্যা কোচিং ডিপোতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও, এই জোনে আটটি অমৃত ভারত ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নিউ বঙাইগাঁও এবং নিউ গুয়াহাটিতে দুটি নতুন ‘সেলফ-প্রপেলড অ্যাক্সিডেন্ট রিলিফ মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট’ (এসপিএআরএমই)-এর কাজ চালু করা হয়েছে। বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য, ২১টি ট্রেনে ২২টি কোচ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ইন-মোশন ওয়ে ব্রিজ (ইআইএমডব্লিউবি)-এ ওজন পরিমাপের নির্ভুলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রঙিয়া ডিভিশনে একটি ‘টেস্ট রেক’-ও চালু করা হয়েছে, যা পরিচালনগত দক্ষতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
সুরক্ষা ব্যবস্থা মজবুতকরণে এক বিশাল পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, বিভিন্ন কোচের বৈদ্যুতিক প্যানেলগুলোতে ৩,৪১৬টি অ্যারোসল-বেসড ফায়ার সাপ্রেশ্যান সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে; এবং একই সাথে, সমস্ত প্যান্ট্রি ও পাওয়ার কারে ম্যানুয়াল ফায়ার ডিটেকশ্বন এণ্ড সাপ্রেশ্যান সিস্টেম সফলভাবে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় উন্নীত করা হয়েছে, যা ট্রেনে ভ্রমণের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। এক ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে, ২০২৫-এর নভেম্বর মাসে নিউ বঙাইগাঁও ওয়ার্কশপে একটি ‘টাওয়ার কার’-এর সর্বপ্রথম পিওএইছ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা আরও মজবুত করার লক্ষ্যে, নিউ বঙাইগাঁও ওয়ার্কশপে এলএইছবি কোচগুলোর ‘মিড-লাইফ রিহ্যাবিলিটেশন’ (এমএলআর) কাজ শুরু হয়েছে; এবং প্রথম আপগ্রেড করা কোচটি ২০২৬-এর এপ্রিলের মধ্যে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজধানী এক্সপ্রেসের ৪৯টি কোচের সংস্কারের মাধ্যমে যাত্রী সুযোগ-সুবিধাও উন্নত করা হয়েছে ৷ এর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের মান উন্নত করার লক্ষ্যে ডিব্রুগড় ওয়ার্কশপে অবধ অসম এক্সপ্রেসের সাতটি রেকই উন্নত মানের করা হয়েছে। এই সাফল্যগুলো উদ্ভাবন, সুরক্ষা এবং যাত্রীদের উন্নত অভিজ্ঞতার প্রতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ধারাবাহিক মনোযোগকে তুলে ধরে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির একটি বছর হিসেবে চিহ্নিত করে।
