প্রধানমন্ত্রী এদিন জানালেন, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য তেল, গ্যাস, ফার্টিলাইজার বাহী জাহাজ সুরক্ষিতভাবে দেশে পৌঁছয়। আমাদের চেষ্টার ফলেই হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা একাধিক জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছেছে। ভারতে ইথানলের উৎপাদনে গত এক দশকে অনেক কাজ হয়েছে। যার ফলে ৪.৫ কোটি ব্যারেল আমাদের কম আমদানি করতে হয়। বেলের বৈদ্যুতিনকরণের কারণেও আমাদের দেশে ডিজেলের চাহিদা কমেছে। মেট্রো নেটওয়ার্ক বাড়ানোর, ইলেকট্রনিক মোবিলিটির উপর বেশি জোর দেওয়ার ফলে চাহিদা কমেছে।’’
advertisement
আরও পড়ুন: ক্রমাগত গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জের, ভাড়া বাড়ল অটোর! কোন রুটে, কত টাকা ভাড়ল?
দেশে পেট্রোলের জোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এনার্জি সিকিউরিটি সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভারত এখন ৪১ দেশ থেকে এনার্জি আমদানি করে। ভারতের কাছে ৫৩ লাখ মেট্রিক টনের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলের যোগান রয়েছে৷ ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য- যেখান থেকে সম্ভব গ্যাস এবং জ্বালানির সরবরাহ অটুট রাখা৷ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকার পরও ভারতের চেষ্টা ছিল কোনওভাবেই যেন এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেলের সরবরাহে ঘাটতি না থাকে৷ ভারত সতর্ক এবং সচেতন রয়েছে৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘৩ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সুরক্ষিত ভাবে ভারতে ফিরেছেন। কেবল ইরান থেকেই ১০০০ হাজারের উপর ভারতীয়, যার মধ্যে একটা বড় অংশই ডাক্তারি পড়ছিলেন তাঁরা ফিরেছেন৷ প্রায় ১ কোটি ভারতীয় থাকেন যুদ্ধ বিপর্যস্ত দেশগুলিতে। ভারতীয় নাবিকেরাও রয়েছেন। তাই ভারতের সংসদ থেকে এই যুদ্ধ নিয়ে সম্মিলিত আওয়াজ তোলা হোক, সেটা জরুরি। আমি নিজে দু’বার ফোনে কথা বলেছি। দুঃখজনকভাবে কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, কিছু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। আমরা ওই দেশে থাকা ভারতীয়দের সব রকম সহযোগিতা করছি। সঙ্কটের পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সুরক্ষা আমাদের প্রায়োরিটি৷’’
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়তে চলেছে কৃষকদের উপর৷ তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সঙ্কটের জেরে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ পড়ছে। ভারত শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যাতে ভারতের অর্থনীতিতে এর চাপ সবচেয়ে কম হয়। যে সেক্টরকে সাহায্যের দরকার রয়েছে, সেই সেক্টরকে সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে৷ কৃষির উপর কতটা প্রভাব পড়বে সেটাও ভাবনার ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক বস্তা ইউরিয়া ৩০০০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে সেখানে ভারতের কৃষকরা ৩০০ টাকা প্রতি বস্তার হারে ইউরিয়া কিনতে পারছে৷ সরকার দেশের কৃষকদের মেড ইন ইন্ডিয়া প্রোডাক্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করেছে। আমি দেশের কৃষকদের বিশ্বাস দেওয়াচ্ছি যে দেশের সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে৷ গরমকাল আসছে। গরম যত বাড়বে তত বেশি বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। কয়লার উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। রিনিউয়েবল এনার্জির দিকেও গত এক দশকে জোর দিয়েছে কেন্দ্র।’’
