উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনস্থ গৌরীপুরে লেভেল ক্রসিং গেট নং. সিএ-২৬ -এর পরিবর্তে একটি ‘রোড ওভার ব্রিজ’ (আরওবি)-এর নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা এই অঞ্চলে রেল ও সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (নির্মাণ সংস্থা)-এর দ্বারা নির্মাণ করা এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
advertisement
আরওবিটি গৌরীপুর ও আলমগঞ্জ স্টেশনের মধ্যে ১৬২/৫-৬ কিলোমিটারে নির্মাণ করা হয়েছে। এই কাঠামোটি মোট দৈর্ঘ্য ৯৪০ মিটার, এবং এটি ১:৪০-এর সর্বোচ্চ ঢালবিশিষ্ট করে ডিজাইন করা হয়েছে। নেশন্যাল হাইওয়ে স্ট্যানডার্ড অনুসারে নির্মিত এই ব্রিজটিতে ১০.৫০ মিটার প্রশস্ত একটি তিনটি লেনের যানচলাচল পথ রয়েছে, যা যানবাহনের সুগম ও দক্ষ চলাচল নিশ্চিত করে। এই কাঠামোর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ৬২-মিটার দৈর্ঘ্যের ‘বো-স্ট্রিং গার্ডার’ মূল স্প্যান, যা বলিষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ারিং ও আধুনিক নির্মাণশৈলীর প্রতিফলন ঘটায়।
এই আরওবি ব্যস্ত লেভেল ক্রসিং গেট নং. সিও-২৬-এর স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, যার ট্রেন ভেহিকল ইউনিট (টিভিইউ)-এর পরিমাণ ৬৯,৮৪০ ছিল, এর দ্বারা বোঝা যায় যে, এটি রেল ও সড়ক উভয় প্রকার যান চলাচলের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিল। এই স্থানটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি গৌরীপুর ও ধুবড়ির মতো প্রধান শহরগুলিকে সংযুক্তকারী একটি স্টেট হাইওয়েতে অবস্থিত, ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য সংযোগসূত্র হিসেবে কাজ করে।
এই আরওবি-এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার ফলে, বার-বার গেট বন্ধ থাকার জন্য সৃষ্ট বিলম্ব সম্পূর্ণরূপে দূর হয়েছে, যার ফলে যানবাহন ও পথচারীদের বাধাহীন ও সুরক্ষিত চলাচল নিশ্চিত হয়েছে। এই ব্রিজটি দুর্ঘটনার সম্ভবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে, ভ্রমণের সময় এবং জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনবে। এছাড়াও, এটি স্থানীয় বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে, যাতায়াত সুবিধা উন্নত করবে এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
