ইরান বলেছে যে, শত্রুর সমর্থকদের জাহাজগুলোর জন্য এই পথটা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থায় ইরান-এর প্রতিনিধি আলি মুসাভি বলেছেন যে, স্ট্রেট অফ হরমুজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কিন্তু জাহাজগুলোকে ওখান দিয়ে যেতে হলে ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা আর সমন্বয় করতে হবে। উনি আরও বলেছেন যে, ইরান কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়, কিন্তু তার জন্য দরকার হামলা বন্ধ হওয়া আর পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে ওঠা।
advertisement
এই হুমকির পরই আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনে (IMO) নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি জানান, হরমুজ প্রণালী সবার জন্য বন্ধ নয়। তবে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘শত্রু রাষ্ট্রগুলির’ সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলি চলাচলের অনুমতি পাবে না। মুসাভি জানিয়েছেন, যেসব জাহাজ ইরানের শত্রু নয়, তারা তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয় করে চলে, তারা এই রুট ব্যবহার করতে পারবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর হুমকির কতটা প্রভাব?
ইরানের এই বক্তব্যের পরও ওখান থেকে যাওয়া জাহাজের সংখ্যা স্বাভাবিক হয়নি। এর পিছনে অনেক কারণ আছে, সবচেয়ে বড় কারণ হল আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা অশান্তি, যার জন্য এই রাস্তায় যাওয়া জাহাজগুলোর উপর হামলার ভয় এখনও কাটেনি। শিপিং কোম্পানিগুলোও এই নিয়ে সতর্ক আছে, কারণ তারা চায় না তাদের পরিচয় কোনও রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ুক। এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই রাস্তা পুরোপুরি না খোলা হয়, তাহলে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট-এ হামলা করা হতে পারে। এরপর ইরানের মনোভাব আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে আর পুরো বিশ্ব হরমুজের দিকে তাকিয়ে আছে।
ভারতের প্রায় ২২টা জাহাজ হরমুজের আশপাশে আটকে বা প্রভাবিত হয়েছে। এই জাহাজগুলিতে প্রায় ৬১১ জন নাবিক আছেন, যাদের নিরাপদ বলা হয়েছে। এই জাহাজগুলোর মধ্যে অনেকগুলো কাঁচা তেল, LPG আর LNG নিয়ে ভারত আসছে। যদিও কিছু জাহাজ বের হতে শুরু করেছে, কিন্তু এখনও অনেক জাহাজ আটকে আছে। ভারত নিয়মিত ইরান আর অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলছে, যাতে আরও বেশি জাহাজ নিরাপদে বের হতে পারে। ভাল কথা এই যে, হরমুজে এত সঙ্কটের পরও ভারতের কোনও জাহাজকে টার্গেট করা হয়নি, যেটা ভারতের সফল কূটনীতি বলে ধরা হচ্ছে।
