রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবে রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেসের অহংকার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস থেকে বহু নেতা দল ছেড়েছেন, দল একাধিকবার ভেঙেছে, কিন্তু তখন কাউকে দেশদ্রোহী বলা হয়নি। শুধু শিখ হওয়া এবং রাজনৈতিক মত বদলানোর কারণেই রভনীত সিং বিট্টুকে দেশদ্রোহী বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদি বলেন, এটি শুধু একজন সাংসদের অপমান নয়, গোটা শিখ সম্প্রদায়ের অপমান।
advertisement
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশের কোনও নাগরিককে দেশদ্রোহী বলা হলে তা জাতি কীভাবে সহ্য করবে?” তাঁর মতে, বিট্টুর পরিবার দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেই কেউ দেশদ্রোহী হয়ে যায় না। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস সংসদে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় সংসদের বাইরে। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন রভনীত সিং বিট্টু, যিনি আগে কংগ্রেসে ছিলেন এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই সময় রাহুল গান্ধী তাঁকে “দেশদ্রোহী” বলে মন্তব্য করেন। পরে হাত মেলানোর প্রস্তাব দিলে বিট্টু তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং রাহুলকে “দেশের শত্রু” বলে পাল্টা মন্তব্য করেন। এই ঘটনাই দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়।
বিজেপির শিখ নেতারা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেন, এই মন্তব্য শালীনতা ও মর্যাদার সব সীমা ছাড়িয়েছে। তবে কংগ্রেস নেতারা রাহুলের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দেন। তাঁদের দাবি, দল বিট্টুকে অনেক কিছু দিয়েছে, তবুও তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। অমৃতসরের সাংসদ গুরজিৎ আউজলা বলেন, বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিট্টু “স্বৈরাচারের পাশে দাঁড়িয়েছেন”।
রাজ্যসভায় নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি কংগ্রেসকে আরও একাধিক অভিযোগে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, দলিত সম্প্রদায় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের অপমান করেছে। তাঁর মতে, দেশের মানুষকে অসম্মান করা কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরে সংসদ ও রাজনীতির ময়দানে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
