নিজের বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক মিনিট দূরে ছিলেন ওই ইঞ্জিনিয়ার৷ অফিস থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন৷ রাতে ঘন কুয়াশা থাকায় বুঝতে না পেরে প্রথমে রাস্তার ধারের একটি নর্দমার পাঁচিয়ে ধাক্কা মারে তাঁর এসইউভি গাড়ি৷ তারপর তা একটি বিল্ডিংয়ের জন্য খুঁড়ে রাখা ২০ ফুট গভীর জলভর্তি গর্তে পড়ে যায়৷ ওখানে যে ওত গভীর ও বড় গর্ত রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও বোর্ড, কোনও রিফ্লেক্টর সেখানে রাখা ছিল না৷
advertisement
এখানেই শেষ নয়৷ সেখানে ডুবন্ত গাড়ি থেকেই বাবাকে ফোন করেন ওই যুবক৷ বলেন, তাঁর গাড়ি জলে পড়ে গেছে, সে মরতে চায় না, তাঁর বাবা যেন তাড়াতাড়ি কিছু একটা ব্যবস্থা করে৷ তার পরে তরুণের বাবার উদ্যোগে ঘটনাস্থলে দমকল সহ আপৎকালীন কর্মীরাও৷ কিন্তু ঘন কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না৷ তার উপরে নির্মাণস্থল থাকায় গর্তের মধ্যে ঢালাইয়ের লোহার রড ডুবে থাকাও উদ্ধারকাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷
টানা ৯০ মিনিট নিজেকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল ওই তরুণ৷ সাহায্যের আশায় সেকেন্ড গুনছিল৷ শেষ চেষ্টায় ডুবন্ত গাড়ির ভিতর থেকে ফোনের আলোটা জ্বালিয়েও নিজের লোকেশন জানাতে চেয়েছিল৷ কিন্তু বাঁচতে পারেনি৷ ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে সেই ২০ ফুট গভীর পিট থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ৷
ঘটনা ঘিরে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন৷ রাজনৈতিক দোষারোপ পাল্টা দোষারোপের পালা চলছে৷ তবে উত্তরপ্রদেশ সরকার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ঘটনার পিছনে যাঁদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
