পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকে সতীর ৫১ পীঠের এক পীঠ মা বর্গভীমা মন্দির রয়েছে। প্রতিদিন শোলমাছ দিয়ে ভোগ দেওয়ার চল রয়েছে। এর পাশাপাশি এই মাছ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায়। মাছে ভাতে বাঙালির খাদ্য তালিকায় সহজেই স্থান পেয়েছে। এক সময় গ্রাম বাংলার খাল-বিল, পুকুর ডোবায় পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনে পাওয়া যায় না। ফলে জেলার বিভিন্ন বাজারে শোলমাছের চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণের জন্য বাড়ির সামনে অল্প পরিসরে চৌবাচ্চায় শোলমাছ চাষ করে স্বনির্ভর হচ্ছেন মহিষাদলের ঘাগরার বাসিন্দা যুবক বুদ্ধদেব মাইতি।
advertisement
বুদ্ধদেব বাড়ির সামনে চারটি সিমেন্টের ট্যাঙ্ক বানিয়ে তাতে আধুনিক পদ্ধতিতে শোলমাছ চাষ করেছেন। শোল মাছের চারামাছ নিয়ে চাষ শুরু করে প্রায় এক বছর আগে। অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে প্রথমে পাঁচ হাজার চারাপোনা নিয়ে এসে চাষ শুরু করে। শেষ আট মাসে সেই চারামাছ বড় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এক একটি মাছের ওজন হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত। জেলার তমলুক, মহিষাদল, নন্দকুমার, হলদিয়া, সুতাহাটা প্রভৃতি বাজারে শোলমাছের খুব চাহিদা রয়েছে। বুদ্ধদেব জানায়, “চারা মাছ থেকে মাছগুলিকে বড় করতে খরচ পড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। বর্তমান সময়ে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। মাছ চাষ করে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছি। তাই এবছর আরও বেশি শোল মাছ চাষ করছি।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এবছর বুদ্ধদেব ১২ হাজার চারামাছ নিয়ে চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে সময়ে চাকরির পিছনে না ছুটে অল্প জায়গায় আধুনিক পদ্ধতিতে চাষবাস করলে স্বনির্ভর হওয়া যায়। তিনি অন্যান্য যুবক যুবতীদের মাছ চাষবাসের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, বুদ্ধদেব। প্রয়োজনে চাষের সবরকমের সহযোগিতা করবেন বলেও জানান বুদ্ধদেব। বর্তমানে বুদ্ধদেবের শোলমাছ চাষ দেখতে দূর-দূরান্তের বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে এই শোল মাছ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে বেকার যুবক যুবতীরা।





