সূত্রের খবর, জেডিইউর জাতীয় নির্বাহী সভাপতি সঞ্জয় ঝা বুধবার সকালে দিল্লি থেকে পটনায় পৌঁছেছেন এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং, যিনি লল্লন সিং নামেও পরিচিত, আগামিকাল, বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি থেকে পটনায় পৌঁছবেন। এই সমস্ত কিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে বড় ধরনের রদবদলের৷
advertisement
ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাব্য মডেল তাহলে কী?
বিহারের রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে ‘চাণক্য’-এর ভূমিকা পালন করে আসছেন নীতীশ কুমার৷ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং এনডিএ-র মধ্যে এই যে আলোচনা চলছে, তাতে বিহারে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটা বড় ও বিশদ রোডম্যাপ তৈরির ইঙ্গিত পাওয়ার যাচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্র এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আজ পটনায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এনডিএ আইনসভা দলের বৈঠকে নিম্নলিখিত মূল বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে৷
নীতীশ কুমারের রাজ্যসভার সিদ্ধান্ত: নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেন নতুন করে। জেডিইউ কোটার মাধ্যমে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে।
নিশান্ত কুমারের প্রবেশ: নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারেন। জেডিইউ-এর বেশ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী এবং নেতা ইতিমধ্যেই নিশান্তের রাজনীতিতে প্রবেশকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছেন।
বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী: নীতীশ কুমার যদি দিল্লিতে যান, তাহলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) একটি মুখ্যমন্ত্রীর পদ পেতে পারে। সেক্ষেত্রে, বর্তমান উপ মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরির নাম সবার প্রথমেই উঠে আসছে৷ এর ফলে বিহারে নতুন সরকার তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সঞ্জয় ঝা এবং লল্লন সিংয়ের ভূমিকা:
দিল্লি থেকে পটনায় এসেছেন সঞ্জয় ঝা এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশেরর সঙ্গে এক ঘণ্টার উপরে বৈঠক করেছেন৷ মনে করা হচ্ছে, তাতে জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের (বিজেপি হাইকমান্ড)সঙ্গে ইতিমধ্যেই নীতীশের এই ‘প্রস্থান পরিকল্পনা’ সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। এদিকে, গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিংয়ের পটনা আগমনকেও এই পুরো প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার:
২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের পর, এনডিএ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। এক্ষেত্রে, নীতীশ কুমারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব বিজেপি-র হাতে ছেড়ে দিয়ে রাজ্যসভায় চলে যাওয়া এবং ছেলের জন্য উপ মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদকে নিশ্চিত করা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বৃহত্তর অংশ বলে মনে করা হচ্ছে৷ রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই অঙ্ক হয়ত বিহার ভোটের আগেই কষে রাখা হয়েছিল৷
