বুধবার বেঞ্চের সামনে সওয়াল করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াটস অ্যাপ কমিশন’ বলে উল্লেখ করেন। অভিযোগ করেন এসআইআর-এর জন্য সরকারি নথি অনুমোদন করছে না। বলেন, ‘‘শুধুমাত্র নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এসআইআর প্রক্রিয়া৷ শুধুমাত্র তথ্য না মেলাই এখানে মুখ্য নয়..বিষয়টি অপরিকল্পিত..মেয়েরা বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ি যায়…স্বামীর পদবি ব্যবহার করে..এটাকেও মিসম্যাচ বলছে৷’’
advertisement
আরও পড়ুন: ‘কোথাও বিচার পাচ্ছি না..,’ SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল মমতার, সোমবার পরবর্তী শুনানি
প্রতিক্রিয়ায় বিচারপতি জানান, ‘‘এটা হতে পারে না৷’’ মমতা ফের কমিশনের তীব্র সমালোচনা করে কোর্টরুমে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘এটাই ওরা (নির্বাচন কমিশন) করছে৷ মেয়েরা যাঁরা শ্বশুরবাড়ি গেছে বলে ঠিকানা বদলেছে, তাঁদের নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে৷ অনেক সময় গরিব মানুষও বাসা বদল করে৷ কিন্তু, এই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির জন্য (সমস্যা হচ্ছে)৷ ’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ খুব খুশি যে আদালত আধার কার্ডকে অন্যতম নথি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ অন্য রাজ্যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও নেওয়া হয়েছে৷ জাতি শংসাপত্র নেওয়া হচ্ছে৷ শুধু সামনে নির্বাচন বলে ওরা বাংলাকে টার্গেট করেছে৷ ৪টি রাজ্যে ভোট রয়েছে৷ তাহলে ২৪ বছর পরে হঠাৎ ৩ মাসের মধ্যে এত তাড়াহুড়ো করে (এসআইআর প্রক্রিয়া) কেন করা হচ্ছে? এখন ধান তোলার সময়, মানুষ বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে কাজের জন্য, ১০০-রও বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন৷ অনেক বিএলও মারা গিয়েছেন৷ কতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ অসমে (এসআইআর) হচ্ছে না কেন?’’
আগামী সোমবার এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি৷ মুখ্যমন্ত্রী চাইলে ফের আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি মনে করে তাহলে পশ্চিমবঙ্গে বাড়ানো হতে পারে এসআইআরের সময়সীমা। অন্যদিকে সূত্রের খবর, আগামী সোমবার ফের দিল্লিতে এসে শুনানিতে যোগ দেবেন তৃণমূল নেত্রী। সেক্ষেত্রে আগামী রবিবার দিল্লিতে যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
