ধামনোটিয়ার বাড়ির কাছে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ধমনোটিয়া ছাত্রীটিকে নিয়ে নিজের ভাড়া ঘরের দিকে যাচ্ছেন। তার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে, একই ক্যামেরায় ধরা পড়ে, ধমনোটিয়ার একা ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, সেদিন ওই ঘরের ভিতরে যা ঘটেছিল তা আগে থেকেই প্ল্যান করা ছিল৷ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধামনোটিয়া প্রথমে ছাত্রীটিকে যৌন সম্পর্ক তৈরির জন্য চাপ দেয়। তিনি অসুস্থ বলে প্রত্যাখ্যান করলে জোর করে ধর্ষণ করে। নির্যাতনের পরে, তিনি অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া দড়ি দিয়ে মেয়েটির হাত-পা বেঁধে দেয়৷ বেঁধে দেয় চোখও৷
advertisement
আরও পড়ুন: দায়িত্ব শেষ! সরে দাঁড়ালেন মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমানের শপথের আগেই পদত্যাগ
যখন মেয়েটি চিৎকার করে বাধা দিতে যায়, তখন ধমনোটিয়া মেয়েটির মুখে কাপড় ঢুকিয়ে তার বুকের উপর চড়ে বসে৷ এরপরে, যতক্ষণ না সে জ্ঞান হারাচ্ছে ততক্ষণ সে মেয়েটির বুকের উপরে বসে থাকে৷ মেয়েটির শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে বুঝতে পারার পরে, ধমনোটিয়া মেয়েটির বুকে গায়ের জোরে ছুরি বসিয়ে দেয়৷ এত জোরে সে ছুরি বসয়েছিল ছিল যে অভিঘাতে ছুরিটাই ভেঙে যায়।
কিন্তু নৃশংসতা এরপরেও থামেনি। পুলিশ জানিয়েছে যে, ওই ছাত্রীকে খুন করার পরও ধমনোটিয়া ঘরের ভিতরেই ছিল। প্রথমে সে বাইরে বেরিয়ে মদের দোকান থেকে বিয়ার কিনে ফিরে আসে এবং মৃত দেহের পাশেই বিয়ার খায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময়, সে স্বীকার করে যে সে তারপরে ছাত্রীর দেহের উপর যৌন নির্যাতন চালায় এবং তারপরে পোশাক পরিবর্তন করে তরুণীকে উলঙ্গ অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়৷
১০ ফেব্রুয়ারি সকালের দিকে ছাত্রীটি তাঁর আধার কার্ড সংশোধন করার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তাঁর বাবা তাঁকে কালেক্টরেটের কাছে দিয়ে এসেছিলেন। পরে সে তাঁর ছোট বোনকে ফোন করে জানায় যে সে তাঁর সহপাঠী পীযূষ ধমনোটিয়ার সাথে জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছে এবং রাত ১১ টার মধ্যে ফিরে আসবে।
রাত ১১ টার দিকে, মেয়েটির ফোন থেকে একটি মেসেজ আসে৷ সেখানে লেখা ছিল, ‘বাবাকে বোলো ও আর বাড়ি ফিরবে না।’
তারপরে মেয়েটির ফোন কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে জানতে পারেন যে, কলেজের একটি গ্রুপে দুজনের ১১টি আপত্তিকর ভিডিও শেয়ার করা হয়েছিল ওই সময়, মেয়েটির মোবাইল থেকে। একই ক্লিপ মহিলার হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে আপলোড করা হয়েছিল এবং তাঁর ফোনে পরিচিতিদের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে পুলিশের কাছে ধমনোটিয়া দাবি করেছে যে, সে ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিল৷ কিন্তু ওই তরুণী সম্প্রতি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিল৷ গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তাঁর সাথে কথা বলেনি। ধমনোটিয়ার দাবি, কোনও ডেটিং ওয়েবসাইটে অন্য ছেলের সঙ্গে কথাও বলছিল মেয়েটি। এই বিষয়টি নিয়েই ঘটনার দিন দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
খুনের পর, পীযূষ মুম্বই পালিয়ে যায়, পানভেলে হোটেলে থাকেন। দিনভর মেট্রো স্টেশনে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রমাণ নষ্ট করার জন্য ছাত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। পুলিশ যখন পানভেলে পৌঁছয়, তখন তারা দেখে হোটেলের এক কোণে সে কালা জাদু করে ছাত্রীর আত্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে। মনে করা হচ্ছে, ঘটনার পর থেকে ধমনোটিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং মহিলার আত্মার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল।
তার জবানবন্দিতে, ধমনোটিয়া বলেছে যে তাঁর বান্ধবী একটি অ্যাপের মাধ্যমে অন্য কারও সাথে কথা বলছিল, যার ফলে এই ঘটনাটি ঘটেছে। হত্যার পরে, ধমনোটিয়া মদ্যপান করে এবং কিছুক্ষণ মৃতদেহের পাশে বসে থাকে। অভিযুক্ত আরও বলেছে যে, সে ওই অ্যাপার্টমেন্টেই মেয়েটির দেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। সেখানে বেশ কয়েকটি দড়ির টুকরো ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে মহিলার হাত-পা বাঁধা হয়েছিল।
