দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই নতুন উন্নত ক্রসট্যাক্সিওয়ে তৈরি করা হয়েছে, যাতে টার্মিনাল ২ থেকে টার্মিনাল ৩ পর্যন্ত বিমান চলাচলে সুবিধা হয়। এই ১.৮ কিলোমিটার ট্যাক্সিওয়ে ভারতে প্রথম কোনও বিমানবন্দর পেতে চলেছে। জানা গিয়েছে টার্মিনাল ৩-এর প্রধান রাস্তা থেকে প্রায় ৮ মিটার উঁচুতে উঠবে এবং এটি প্রায় ২০৩ মিটার চওড়া হবে।
advertisement
কী এই ট্যাক্সিওয়ে?
ট্যাক্সিওয়ে এমন একটি পথ যা বিমানবন্দরের ভিতরে রানওয়ে থেকে টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত থাকে। অনেকটা রানওয়ের মতোই, যতক্ষণ বিমান মাটিতে থাকে ততক্ষণ এই পথ ধরেই সে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। বিমান উড়ানের সময় বা অবতরণের পর কম সময়ে ও নিরাপদে বন্দরের দরজা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য এই ট্যাক্সিওয়ে ব্যবহার করা হয়।
দিল্লি বিমানবন্দরের জন্য নির্মিত এলিভেটেড ট্যাক্সিওয়েটি টার্মিনাল ৩-এ মহিপালপুর নর্দার্ন অ্যাক্সেস রোডের উপর দিয়ে যাবে, সেখানে একটি ১৪৮ মিটার সেতু থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া ৪৩.৮ মিটারের আরও একটি ছোট সেতু থাকবে টার্মিনাল ৩-এর সীমানা প্রাচীর বরাবর।
জরুরি যানবাহন চলাচলের জন্য ট্যাক্সিওয়ের দু’পাশে প্রায় তিন মিটার চওড়া রাস্তা তৈরি করা হবে। বিমান ওড়ার সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে দু’টি ট্যাক্সিওয়ের মধ্যে ৪৭ মিটার ব্যবধান থাকবে।
দিল্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড ট্যাক্সিওয়ে খোলার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন-এর কাছে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে বলে জানা গিয়েছে৷ ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন-ও ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্প পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর বা জার্মানির লিপজিগ বা হ্যালে বিমানবন্দর-সহ বিশ্বের ১০টি বিমানবন্দরে ট্যাক্সিওয়ে উন্নত করা হয়েছে। সেই সব আন্তর্জাতিক মডেল পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে অধ্যয়ন করার পরেই দিল্লি বিমানবন্দরে এই ধরনের কাঠামো তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছে।
লারসেন অ্যান্ড টুব্রো সংস্থা এই কাজের বরাত পেয়েছে। এই ট্যাক্সিওয়ে গতবছর গ্রীষ্মেই খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড অতিমারীর কারণে বিলম্ব হয় নির্মাণ কাজে।
