নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কার্যত সংঘাতের আবহ তৈরি করেন তিনি। মমতা নির্বাচন সদনে পৌঁছন বিকেল ৪টেয়, সকলের সঙ্গে মমতার পরনেও প্রতিবাদী বেশ। সাদা শাড়ির উপরে মুখ্যমন্ত্রী জড়িয়ে নিয়েছেন কালো চাদর!
advertisement
৬৮ তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে সম্মানিত দলাই লামা! ঝুলিতে এবার নয়া প্রাপ্তি
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গতকালই রাজধানীতে পৌঁছেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে এসআইআর ‘আতঙ্কে’ নিহতদের পরিবারের সদস্যদেরও যাওয়ার কথা ছিল। তাঁরাই বর্তমানে বঙ্গভবনে রয়েছেন। এই আবহে সোমবার সকাল থেকেই আচমকা বাড়ানো হয় বঙ্গভবনের নিরাপত্তা। ব্যারিকেড তোলা হয় বঙ্গভবনের বাইরে। হঠাৎই দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনী বঙ্গভবন ঘিরে ফেলে। বঙ্গভবনে পুলিশি হেনস্থা ও তল্লাশির অভিযোগ উঠতেই রনংদেহী মূর্তিতে হাজির বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুঁশিয়ারি ছুঁড়ে দিলেন দিল্লি পুলিশের দিকে।
অভিযোগ, বঙ্গভবনের ঘরে ঘরে ঢুকে পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। প্রশ্ন উঠছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে যাতে ওই পরিবার পৌঁছতে না পারে তাই এত নিরাপত্তার বেড়াজাল? দিল্লি পুলিশের এই ‘অতিসক্রিয়তা’র প্রতিবাদে কার্যত ঘরের পোশাকেই ছুটে আসেন মমতা। পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানান, তাঁকে কখনই দুর্বল মনে করার কোনও কারণ নেই। মমতা বলেন, “আমাকে দুর্বল ভাবার কিছু নেই, আমি ঘরের শাড়ি পরে এইভাবে চলে এসেছি। নিজের শক্তি প্রদর্শন করতে পারি।”
এদিন বঙ্গভবনে পৌঁছে প্রথমেই এসআইআরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন মমতা। কোনওরকম ভয় না পাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁদের আশ্বাস দেন। ভিতরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও চিন্তা করবেন না। আমি তো আছি।”
এরপরেই বঙ্গভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “দিল্লি পুলিশ বঙ্গভবনে ঢুকে ঘরে ঘরে সার্চ করছে। ওখানে বাংলার মানুষ থাকছেন। এটা তো আমাদের ভবন। ওরা এটা করতে পারে না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এসআইআরের কারণে যাঁদের পরিবারে মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিজনদের নিয়েই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। পাশাপাশি এমন মানুষও রয়েছেন, যাঁরা জীবিত থাকলেও কমিশনের খাতায় মৃত বলে নথিভুক্ত।
দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন “আমাকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। ভাবলে ভুল হবে। অনেক দূর দূর থেকে আমরা ওঁদের নিয়ে এসেছি। ওঁদের ভয় দেখানো যাবে না। আমি রাতে যে শাড়ি পরি সেই পোশাকও ছাড়িনি। যা পরেছিলাম, তা-ই পরে অভিষেককে নিয়ে চলে এসেছি।”
সোমবার সকাল থেকে বঙ্গভবনের সামনে আচমকাই দিল্লি পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ে। অভিযোগ, এলাকা পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। বঙ্গভবন ঘিরে রাখা হয়েছে এবং ভিতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যান মমতা। কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শুরুর আগে থেকেই রাজধানীতে যুদ্ধের আবহ প্রস্তুত করে দেন তিনি।
