বিয়ের মাত্র ৩৪ দিন পর স্বামীকে হারিয়েও তিনি ভেঙে পড়েননি, বরং স্বামীর স্বপ্ন পূরণ করতে নিজেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। শনিবার, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তিনি অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি (ওটিএ) চেন্নাই-এর পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেন এবং লেফটেন্যান্ট পদে নিয়োগ পান।
আরও পড়ুন: ইউকে-তে দুই কিশোরীর ওপর ধর্ষণের অভিযোগ! ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে ৯ বছরের কারাদণ্ড
advertisement
তার প্রথম পোস্টিং হয়েছে আসামে। এই সাফল্যে তার বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যরা গর্বিত হয়ে পড়েন। সোনির বাবা কুন্দন সিং বিস্ত, মা মালতি বিস্ত এবং ভাই রাহুল বিস্তও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট সোনি বিস্তের বিয়ে ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডের খাটিমা নিবাসী নীরজ ভান্ডারীর সঙ্গে হয়েছিল। নীরজ ১৮ কুমায়ুন রেজিমেন্টে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের মাত্র ৩৪ দিন পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় সোনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন, কিন্তু তিনি নতুন লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্বামীর স্বপ্ন পূরণ করতে এবং তার স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি সেনাবাহিনীতে অফিসার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আজ তিনি ভারতীয় সেনার একজন অফিসার।
সোনি বিস্ত একটি সামরিক পরিবারে বড় হয়েছেন। তার দাদা হরক সিং বিস্তও সেনাবাহিনীতে ছিলেন, আর তার বাবা কুন্দন সিং বিস্ত ব্রিগেড অফ গার্ডস ব্যাটালিয়নে সুবেদার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গার্ড (NSG) এবং ন্যাশনাল রাইফেলস (RR)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের পরিবারে আরও কয়েকজন সদস্য সেনাবাহিনীতে কর্মরত। এই সমস্ত কিছুই ছোটবেলা থেকে সোনিকে দেশের সেবা করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: নাতির চিতায় ঝাঁপ দিয়ে দাদুর মৃত্যু! তার আগে নাতি যা করেছে, জানুন সেই হাড়হিম করা ঘটনাটি…
স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনে এগিয়ে চলার কাজটা সহজ ছিল না। সোনিকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর মধ্যেই তার ছোট ভাই রাহুল পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন, ফলে পুরো পরিবার আরও বড় সংকটে পড়ে। তবে তার বাবা-মা এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা তাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। তিনি যখন ‘বীর নারি প্রবেশ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে যোগদানের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন এই সুযোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন।
সোনি বলেন, এই পথচলা সহজ ছিল না, কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। এটি তার স্বামীর স্বপ্ন ছিল, যা এখন তিনি পূরণ করছেন। তিনি সেনা আর্মামেন্ট কোরে (Army Ordnance Corps) কমিশন পেয়েছেন। তার জীবনসংগ্রাম কেবল সাহস ও সংকল্পের উদাহরণ নয়, বরং এটি সকল নারীর জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্পও।
