‘কংগ্রেসের ৫ গ্যারান্টি’ বলে উল্লেখ রয়েছে ৫ প্রতিশ্রুতির কথা। কী কী সেগুলো?
দুর্গা সম্মান: ১৮–৫৯ বছর বয়সী প্রতিটি মহিলাকে মাসে ২০০০ টাকা সম্মান ভাতা। মহিলাদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর নারী সুরক্ষা আইন। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার। নারী সুরক্ষায় ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন এবং সরকারি পরিবহণে মহিলাদের বিনামূল্যে ভ্রমণ। মহিলা উদ্যোগের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ও ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ।
advertisement
কৃষক সম্মান: প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের বছরে ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা। চাষের কাজে মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং জঙ্গলমহলের মতো খরাপ্রবণ এলাকায় সেচ সম্প্রসারণ। চা বাগানের শ্রমিকদের এবং ভাগচাষিদের ন্যায্য মজুরি ও নিশ্চিত বাসস্থান।
২০১৪ প্রাথমিক টেট মামলায় নয়া রায়! ৬ প্রশ্ন ভুলে সকলকে অতিরিক্ত নম্বর, হাজার হাজার নতুন উত্তীর্ণ
‘আমরা অনুপ্রবেশকারীদের নাম কাটছি বলে পেটে ব্যথা হচ্ছে!’ অসমে একযোগে মমতা-রাহুলকে আক্রমণ অমিত শাহের
ভোটে জিতলে ‘৫ গ্যারান্টি’! নারী ভাতা থেকে স্বাস্থ্যবিমা, কী কী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা কংগ্রেসের ইস্তেহারে?
বিশ্বমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা: ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের নামে ‘স্বাস্থ্য কার্ড’। এই কার্ডে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসা ও প্রসূতি বিভাগ। জেলা হাসপাতালে বিনামূল্যে ক্যানসার চিকিৎসা ও ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা।
যুব সম্মান: প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে সব সরকারি শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিত ইন্টার্নশিপের সুযোগ। নতুন প্রজন্মকে অন্য রাজ্যের থেকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে রাখতে প্রতিটি জেলায় কৃত্রিম মেধা (AI) প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষার আলো: রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্নাতকস্তর (UG) শ্রেণি পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ। প্রতিটি স্কুলে কথোপকথনের উপযোগী ইংরেজি এবং কৃত্রিম মেধা শিক্ষার ব্যবস্থা। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে থাকবে সংবিধান শিক্ষা। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে দুটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
শেষে লেখা, “কংগ্রেসের হাত ধরুন বিধান চন্দ্র রায়ের বাংলা গড়ুন”।
ইস্তেহার অনুযায়ী, ‘দুর্গা সম্মান’ প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী প্রতিটি মহিলাকে মাসে ২০০০ টাকা করে সম্মান ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীর নিরাপত্তায় কঠোর আইন, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন এবং সরকারি পরিবহণে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের কথাও বলা হয়েছে। মহিলা উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল এবং ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে ‘কৃষক সম্মান’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের বছরে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। চাষের কাজে মাসে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার পাশাপাশি খরাপ্রবণ এলাকায় সেচের পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। চা বাগানের শ্রমিক ও ভাগচাষিদের ন্যায্য মজুরি এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের নামে ‘স্বাস্থ্য কার্ড’-এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা, প্রসূতি বিভাগ এবং জেলা হাসপাতালে বিনামূল্যে ক্যানসার চিকিৎসা ও ডায়ালিসিসের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
যুব সমাজের জন্য ‘যুব সম্মান’ প্রকল্পে সরকারি শূন্যপদ দ্রুত পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং প্রতিটি জেলায় কৃত্রিম মেধা (AI) কেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকতে পারে।
শিক্ষাক্ষেত্রে ‘শিক্ষার আলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, স্কুল স্তরে ইংরেজি ও কৃত্রিম মেধা শিক্ষা চালু করা এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সংবিধান শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে দুটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার আশ্বাস দিয়েছে কংগ্রেস।
এই প্রতিশ্রুতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীরা এই ঘোষণাকে ভোটের আগে ‘প্রতিশ্রুতির বন্যা’ বলে কটাক্ষ করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি—এগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। এখন নজর, ভোটের ময়দানে এই ‘৫ গ্যারান্টি’ কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
