জলবায়ু এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার উল্লেখযোগ্য অভাবের কারণে এর বৃদ্ধি ঘটে, যা শীতকালকে ত্বকের সুস্থতার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়গুলোর মধ্যে একটি করে তোলে। Clinikally-র চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. অনিন্দিতা সরকার এই বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ প্রবীণদের সুরক্ষায় কলকাতা পুলিশের ‘প্রণাম’ প্রকল্প! কারা করতে পারবেন রেজিস্ট্রেশন?
advertisement
প্রকোপ বৃদ্ধির নেপথ্যে বিজ্ঞানসম্মত কারণ
ভারতে শীতকালে, বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। কম আর্দ্রতা ত্বক থেকে তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শুষে নেয়, যা ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে দুর্বল করে দেয়। একবার এই স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বক অ্যালার্জেন, বাহ্যিক উপাদান, দূষণকারী, জীবাণু এবং অন্যান্য বিভিন্ন কারণের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, যার ফলে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর ফলে ত্বকের কোষের পুনর্নবীকরণ দ্রুত হয় এবং আঁশ ওঠার পরিমাণ বেড়ে যায়। একজিমা (অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস) রোগীদের শুষ্কতা এবং চুলকানি বেড়ে যায়, যা প্রায়শই চুলকানোর একটি চক্র তৈরি করে এবং প্রদাহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসও বেশি সাধারণ হয়ে ওঠে, কারণ সংবেদনশীল ত্বক সাবান, সুগন্ধি, উলের পোশাক এবং এমনকি ঘন ঘন হাত ধোয়াতেও তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
ভারতীয় প্রেক্ষাপট: কেন এর প্রভাব আরও গুরুতর
ঠান্ডা দেশগুলোর বিপরীতে ভারতে শীতকালীন ত্বকের যত্ন প্রায়শই প্রতিরোধমূলক না হয়ে প্রতিকারমূলক হয়। অনেক ব্যক্তি তাঁদের ত্বকের নির্দিষ্ট চাহিদা না বুঝেই হার্ড ক্লিনজার ব্যবহার করতে থাকেন, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করেন না বা ঘরোয়া প্রতিকারের উপর নির্ভর করেন। গরম জলে স্নানের মতো দৈনন্দিন শীতকালীন অভ্যাসগুলো ত্বক থেকে প্রয়োজনীয় তেল আরও শুষে নেয়, অন্য দিকে, শীতের মাসগুলোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো বায়ু দূষণ ত্বকের প্রদাহকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে না চাওয়ার কারণে প্রায়শই নিজে নিজে চিকিৎসা করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ট্রপিক্যাল স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ফলাফলকে আরও খারাপ করে তোলে। এর একটি পরিণতি হল ট্রপিক্যাল স্টেরয়েড উইথড্রয়াল, যা রেড স্কিন সিনড্রোম নামেও পরিচিত।
এই কারণগুলো একত্রিত হয়ে একটি মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করে, যা ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সোরিয়াসিস, একজিমা এবং ডার্মাটাইটিসের ঘন ঘন এবং গুরুতর প্রকোপ সৃষ্টি করে।
প্রতিকারমূলক থেকে প্রতিরোধমূলক ত্বকের যত্নের দিকে পরিবর্তন
শীতকালীন ত্বকের সঙ্কট মোকাবেলার জন্য চিকিৎসা থেকে প্রতিরোধমূলক যত্নের দিকে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ত্বকের সমস্যাগুলোকে প্রায়শই স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়, উপেক্ষা করা হয় বা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে সামলানোর পরিবর্তে বিক্ষিপ্তভাবে চিকিৎসা করা হয়। বর্তমান সময়ের প্রয়োজন হল প্রতিরোধমূলক চর্মরোগবিদ্যা, যেখানে ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে শিক্ষিত করা হয়:
– ত্বকের ধরন এবং অবস্থা বোঝা
– শীত শুরু হওয়ার আগেই ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে শক্তিশালী করা
– ত্বকের অবস্থার জন্য নির্দিষ্ট ময়েশ্চারাইজার এবং মৃদু, ত্বককে শুষ্ক না করে এমন ক্লিনজার ব্যবহার করা যা ত্বকের আর্দ্রতা এবং সুরক্ষা স্তরের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করে
– চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড ব্যবহার এড়িয়ে চলা
– রোগের প্রকোপ বাড়ার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া
এছাড়াও, গরম জলের ব্যবহার সীমিত করা এবং ঘরের ভেতরের বাতাসের গুণমান উন্নত করার মতো সাধারণ কিছু লাইফস্টাইল পরিবর্তন শীতের মাসগুলিতে ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
মরশুমি যত্ন থেকে ত্বকের সচেতনতার দিকে পরিবর্তন
শীতকালীন ত্বকের সমস্যাগুলো একটি গভীরতর সমস্যাকে তুলে ধরে: ভারতে ত্বকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব। দেশে যখন সুস্থতা নিয়ে আলোচনা বিকশিত হচ্ছে, তখন ত্বকের স্বাস্থ্যকে একটি মরশুমি উদ্বেগের পরিবর্তে সারা বছর ধরেই অগ্রাধিকার হিসেবে একটি কেন্দ্রীয় স্থান দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে শীতকালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপের সুযোগ হিসেবে দেখাই যায়, সমস্যাকে এই সময়ে স্বীকৃতি দেওয়া সারা দেশে দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের রোগের দীর্ঘমেয়াদী বোঝা কমানোর দিকে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
