ইংরেজি বছরের দ্বিতীয় রবিবার থেকেই এই বিশেষ পরিষেবার যাত্রা শুরু হয়েছে। পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভিত্তিতে এক বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় আপাতত প্রতি শনিবার ও রবিবার চালানো হবে এই জঙ্গল সাফারি। শিলিগুড়ি জংশন থেকে সকাল ১০টায় যাত্রা শুরু করে টয়ট্রেন পৌঁছবে গয়াবাড়ি—মাঝে সুকনা, রংটং, পাগলাঝোরা ও তিনধারিয়া হয়ে পাহাড়ের কোলে ঢুকে পড়বে ট্রেন।
advertisement
এই যাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ মহানন্দা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া পথ। সবুজে মোড়া অরণ্য, পাহাড়ি ঝর্না আর চা বাগানের ফাঁক দিয়ে চলতে চলতে পর্যটকদের অপেক্ষায় রোমাঞ্চ। ভাগ্য সহায় হলে ট্রেনের জানালা দিয়েই দেখা মিলতে পারে বুনো হাতি, হরিণ, বাইসন—এমনকি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারেরও।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রংটং পর্যন্ত জঙ্গল সাফারি চালু হলেও, এবার রুট আরও দীর্ঘ হওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। সম্পূর্ণ প্যাকেজ ভিত্তিতে এই সফর পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রাপথে পর্যটকদের জন্য থাকছে সকালের ব্রেকফাস্ট, গয়াবাড়িতে দুপুরের লাঞ্চ এবং বিকেলে চা–কফির সঙ্গে গরম গরম মোমো। নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে—প্রতিটি কামরায় থাকবেন মহিলা কর্মী। মাথাপিছু ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২,২০০ টাকা।
রবিবার প্রথম দিনের যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের আধিকারিকরা। উদ্বোধনী সফরেই ২৬ জন পর্যটক অংশ নেন। যাত্রীদের উচ্ছ্বাস আর হাসিমুখেই বুঝিয়ে দেয়, বহুদিন পর পাহাড়ে ফিরেছে টয়ট্রেনের সেই পুরনো ম্যাজিক।
প্রথম দিনের যাত্রী রাকেশ শর্মা জানান, টয়ট্রেনে চড়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারেই আলাদা। তাঁর কথায়, ‘ছোটবেলায় টয়ট্রেনের গল্প শুনতাম। আজ নিজের চোখে পাহাড়, জঙ্গল আর প্রকৃতিকে এত কাছ থেকে দেখতে পেরে সত্যিই মন ভরে গেছে। এই সফর শুধু ভ্রমণ নয়, একটা স্মৃতি হয়ে থাকবে।’
অন্যদিকে, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, পর্যটকদের কাছে পাহাড়কে নতুনভাবে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘জঙ্গল সাফারি শুধু রেলভ্রমণ নয়, এটি প্রকৃতি ও পর্যটনের এক সুন্দর সংযোগ। আমরা চাই পর্যটকরা নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে পাহাড়ের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করুন। নতুন বছরে এই পরিষেবা পাহাড় পর্যটনে নতুন গতি আনবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’
দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থার কর্ণধার সঞ্জয় গোস্বামী জানিয়েছেন, আপাতত সাত বছরের চুক্তিতে প্রতি শনি–রবিবার ও সরকারি ছুটির দিনেও এই জঙ্গল সাফারি চালু থাকবে। নতুন বছরের শুরুতেই তাই পাহাড়ের বুকে আবার শিস দিয়ে ছুটছে টয়ট্রেন—জঙ্গলের নীরবতা ভেঙে ফিরছে রোমাঞ্চ, প্রকৃতি আর নস্টালজিয়ার এক অনন্য সফর।পাহাড় যেন আবার ডাকছে—এই ডাক কি উপেক্ষা করা যায়?





