জানা যায়, অবসর সময়ে একাধিকবার এই দত্তপুকুরের বাগানবাড়িতে সময় কাটাতে আসতেন মহানায়ক। সংগ্রহশালায় প্রবেশ করলেই সর্বত্র উত্তম-ময় আবহ। দেওয়াল জুড়ে মহানায়কের বিরল ছবি, অভিনীত ছবির পোস্টার এবং নানা অজানা তথ্য। ‘সবার উপরে’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘পথে হল দেরি’, ‘ভ্রান্তিবিলাস’- সহ একাধিক কালজয়ী ছবির সাদাকালো পোস্টার শোভা পাচ্ছে ঘরের দেওয়াল জুড়ে। বিশেষভাবে সংরক্ষিত রয়েছে একটি খাট ও সেই সময়কার একটি ফ্যান, যা মহানায়কের ব্যবহৃত বলে দাবি সংগ্রহশালা কর্তৃপক্ষের। এমনকি বাড়ির বিদ্যুৎ মিটারের মালিকানায় এখনও অভিনেতা তরুণ কুমার-এর স্ত্রীর নাম রয়েছে বলেও জানান উদ্যোক্তা।
advertisement
বাগান বাড়ির বর্তমান মালিকের কথায়, কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়। বাঙালির ইতিহাস ও মহানায়কের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই এই উদ্যোগ। নতুন প্রজন্ম যাতে উত্তম কুমারকে জানে, চেনে, তাঁর ছবির সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পুরনো বাগানবাড়ির নীচের দুটি তলা সংস্কার করে গড়ে তোলা হয়েছে এই সংগ্রহশালা। সাদাকালো দাবার ছকের মেঝে, পুরনো দিনের গাছপালা আর ঘরের পরিবেশ যেন দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই সোনালি যুগে।
বাগানবাড়ির বর্তমান মালিক এসকে মফিজুল ইসলামের পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে এখানে মহানায়কের একটি মূর্তি স্থাপনেরও। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ’বছরই সংগ্রহশালাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে । সেক্ষেত্রে উত্তম কুমারের পরিবারের কোনও সদস্যের হাতেই উত্তম সংগ্রহশালার দ্বারোদ্ঘাটন হতে পারে বলেও জানা যায়। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, মহানায়কের স্মৃতিবিজড়িত এই বাগানবাড়িকে সংরক্ষণ করায় তাঁরা গর্বিত। ইতিমধ্যেই জেলার ভ্রমণপ্রেমী ও উত্তম-অনুরাগীদের কাছে জায়গাটি বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।





