ঠিক সেই পথের এক পাশে, গয়া বাড়ি ২ গ্রামের পাথুরে মাটিতে একসময় দাঁড়িয়ে ছিলো একটা পরিত্যক্ত পার্ক — সরকারি খাতায় নাম ছিল, মাঠে ছিল ঘাস আর মাঝে বিশাল বটগাছ। দিনের পর দিন, বছরে বছরে সব ফিকে হয়ে যাচ্ছিল, শুধু বটগাছটা দাঁড়িয়ে ছিল একাই। আর সেই বটগাছে বসত এক ঝাঁক হর্নবিল পাখি — যেন পাহাড়ি বাতাসে বেঁচে থাকা এক ছায়া গল্প।
advertisement
কিন্তু গল্পটা শেষ হয়নি। একদিন কিছু স্থানীয় ছেলে-মেয়ে, বয়স্ক মানুষ — সবাই মিলে ঠিক করল, এই পার্কটাকে আর মরতে দেওয়া যাবে না। পঞ্চায়েতের দরজায় দরজায় ঘুরে, কত ফাইল, কত চিঠি, কত যুক্তি — সব শেষে একটা ছোট কমিটি তৈরি হল। শুরু হল নতুন যুদ্ধ — নতুন করে গাছ লাগানো, রঙের কাজ, ছোটদের জন্য দোলনা, বসার জায়গা, ফটো শুটের কোণ — আর নাম রাখা হল সেই পাখিদের নামেই — হর্নবিল পার্ক।
“আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন”
সবচেয়ে বড় চমক — পার্কের গা ঘেঁষে দাঁড়াল কাঁচের গ্লাস স্কাই ব্রিজ, পাহাড়ের বুক চিরে যেন মেঘের মধ্যে হেঁটে যাওয়ার সাহস দেয় সেই ব্রিজ। দূরে দার্জিলিংগামী টয় ট্রেন চলে যায়, কানে ভেসে আসে হুইসেলের ডাক, আর গ্লাস ব্রিজে দাঁড়িয়ে একজন পর্যটক হাসতে হাসতে মোবাইলে বন্দি করে সেই মুহূর্ত।
পঞ্চাশ টাকার টিকিটে একটুখানি স্বপ্ন কিনে নিচ্ছে মানুষ — সেই টাকায় আবার সাজছে পার্ক। পার্কের সভাপতি সুধান লামা এখনো চোখে জল নিয়ে বলেন, “কত পরিশ্রম, কত রাত জাগা — কিন্তু যখন দেখি ছোট্ট বাচ্চারা দৌড়ে বেড়াচ্ছে, পাহাড়ি পোশাকে মেয়েরা ফটো শুট করছে, তখন সবকিছু সার্থক মনে হয়।” শিলিগুড়ি থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক মানিলা থাপা বললেন, “বটগাছের ছায়ায় বসে, মেঘের গ্লাস ব্রিজে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল পাহাড় একদম নিজের হয়ে গেছে। আবার আসব — এবার পরিবার নিয়ে।”
সোশ্যাল মিডিয়ার পর্দা এখন ভর্তি Hornbill Park-এর রিল আর ভিডিওতে — উত্তরবঙ্গ ছাড়িয়ে এখন কলকাতা, বিহার, গুজরাট, এমনকি নেপাল থেকেও মানুষ আসছেন। কেউ ছুটির দিনকে পাহাড়ের হাওয়ায় মিশিয়ে নিচ্ছে, কেউ ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকছে গ্লাস ব্রিজের ওপরে। হয়তো এই গল্পটা শেষ হবে না — যতদিন সেই বটগাছ বেঁচে থাকবে, যতদিন হনবিল পাখিরা আসবে, ততদিন কার্শিয়াংয়ের এই ছোট্ট পাহাড়ি শহর হাসবে — হর্নবিল পার্কের ছায়ায়।
ঋত্বিক ভট্টাচার্য





