পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা এক নম্বর ব্লকের আলংগিরি রঘুনাথ জিউর নবরত্ন মন্দির আজ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। প্রায় দুই শতাব্দীর প্রাচীন এই মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক স্মৃতি ও কাহিনি।আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর ‘মেদিনী কথা’ গ্রন্থে বলেছেন , আলংগিরি দাস পরিবারের দশম পুরুষ কুঁয়ারীচরণ দাস এবং তাঁর পুত্র ভিখারীচরণ দাস মুর্শিদাবাদে ওকালতির কাজে নিযুক্ত ছিলেন। সেই সময় ১৭৮৩ সালে তাঁরা আলংগিরি গ্রামে একটি ছোট মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন, পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মন্দিরের গুরুত্ব বাড়তে থাকে।
advertisement
আরও পড়ুনঃ এ যেন এক রূপকথার নগরী! পাহাড়, নদী, জঙ্গলের অপূর্ব মিলনভূমি! ভুটানঘাট ঘুরে আসুন অল্প খরচে
প্রায় সাতাশ বছর পরে, ১৮১০ সালে ভিখারীচরণ দাসের প্রপৌত্র তুলসী রাম দাস পুরোনো ছোট মন্দিরের পরিবর্তে একটি বৃহৎ নবরত্ন মন্দির নির্মাণ করেন। পাঁচতলা বিশিষ্ট এই মন্দির সেই সময়ের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে পিতলের তৈরি সিংহাসন। সেই সিংহাসনের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে রঘুনাথ শিলা। এছাড়াও মন্দিরের ভিতরে রয়েছে রাধাকৃষ্ণ এবং গোপালের শিলা মূর্তি। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে পুজোঅর্চনা করতে আসেন। মন্দিরের চারপাশে রয়েছে অপূর্ব পোড়ামাটির অলংকরণ। এই অলংকরণে ফুটে উঠেছে রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন কাহিনি। কোথাও দেখা যায় কৃষ্ণলীলার দৃশ্য। কোথাও আবার কমলেকামিনীর কাহিনি। মন্দিরের গায়ে খোদাই করা এই শিল্পকর্ম সেই সময়ের শিল্পীদের দক্ষতার পরিচয় দেয়। সেই সময়ে সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকাজ আজ গবেষকদের আকৃষ্ট করে।
মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি সুন্দর রাসমঞ্চ। এই রাসমঞ্চটি শিখরযুক্ত স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। এখানে রয়েছে আটটি থাম বা স্তম্ভ। প্রতিটি থামের গায়ে রয়েছে টেরাকোটার অলংকরণ। এই অলংকরণেও ফুটে উঠেছে বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি। বিশেষ করে রামায়ণ, মহাভারত এবং কৃষ্ণলীলার দৃশ্য এখানে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। তাই ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে এই মন্দির আজ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মন্দিরের পোড়ামাটির কাজ গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে। ইতিহাস, শিল্প এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে এই আলংগিরির রঘুনাথ জিউর নবরত্ন মন্দির।





