কোন শাড়ির কথা বলা হচ্ছে ভাবছেন তো? এটা আসলে অত্যন্ত প্রাচীন একটি শিল্প, নাম বালুচরি। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বালুচরি শাড়ি বিখ্যাত গোটা বিশ্বে। বিভিন্ন সংস্থার হাত ধরে এই শাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে দেশ থেকে বিদেশের প্রতিটি কোণায়। সম্পূর্ণরূপে হাতে বোনা, ভেষজ রং ব্যবহৃত এই শাড়ি তৈরি করতে সময় লাগে দুই থেকে পাঁচ মাস।
advertisement
বিষ্ণুপুরের স্বনামধন্য বালুচরি শিল্পী অমিতাভ পাল প্রায় নিয়মিত তৈরি করে থাকেন উচ্চমূল্যের এই শাড়িগুলি। অমিতাভ পাল বলেন, ” আমার শাড়ি ‘তন্তুজ’র মাধ্যমে জার্মান, ফ্রান্সে পৌঁছে যাচ্ছে। ন্যাচারাল কালার-এর উপরে যে শাড়ি তৈরি করা হয়, সেই শাড়ির উপরেই যদি অলংকরণ বৃদ্ধি করা যায়, তা হলে বিদেশে অনায়াসে পাঁচ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা যায় শাড়িগুলি। রয়েছে দেড় লাখ টাকার শাড়িও। লক্ষ লক্ষ টাকার এই শাড়ি দেখলে চোখ কপালে উঠবে। এক-একটা শাড়ি যেন এক-একটা গল্প। আর সেই গল্প ফুটে উঠেছে শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায়।”
বালুচরি শাড়ি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয় জ্যাকার্ড মেশিন। জ্যাকার্ড মেশিনের মধ্যে ধাতুর পাতের উপরে বিভিন্ন ডিজাইন করা থাকে এবং সেই ডিজাইনগুলি অনুসরণ করে, হাতে বুনে তৈরি করতে হয় বালুচরি। শিল্পী জানান, ” এক-একটি ভাল বালুচরি শাড়ি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় তিন মাস। ব্যবহার করা হয় প্রাকৃতিক রং।”
নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়





