এদিন সুপ্রিম কোর্টে মালদহের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত৷ নির্দেশ পড়ার সময় তিনি বলেন, ‘‘(এই ঘটনা) আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটা নির্লজ্জ প্রচেষ্টা’’৷ এর লক্ষ্য ছিল নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট মন্তব্য, ‘‘আমরা কারওকে জুডিশিয়াল অফিসারদের মনোবল ভাঙতে দেব না।’’
advertisement
গোটা ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান প্রশাসনিক আধিকারিকদের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি৷ শোকজ করা হয়, CS, DGP, SP and DM— দের৷ আদালত জানিয়েছে, এঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন৷
আদালতের প্রশ্ন, ‘‘কেন জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে পারেনি? জুডিশিয়াল অফিসারদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কমিশনের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন করুক৷ জুডিশিয়াল অফিসারদের পরিবার, সম্পত্তি সব সুরক্ষিত করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জুডিশিয়াল অফিসাররা যেখানে যাবেন, যেখানে কাজ করবেন সব সুরক্ষিত করতে হবে৷’’
রাজ্যের তরফে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী জানিয়েছেন, ‘‘কমিশন একাধিক আধিকারিককে রাজ্যের বাইরে বদলি করে দিয়েছে, আমাদের কিছু করার নেই।’’
এর পরে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, ‘‘আমরা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না, কিন্তু যাঁরা এখন দায়িত্বে রয়েছেন তাঁদেরও নজরদারি বাড়াতে হবে। সরকার এবং বিরোধী পক্ষ সবার সমান ভাবে এই ঘটনার নিন্দা করা উচিত। আমরা জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রোটেক্ট করতে এসেছি।’’ সিবিআই বা এনআইএ-কে গতকালের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিক কমিশন— নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি৷
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘেরাও শুরু হয়, যার পরে রেজিস্ট্রার জেনারেল প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং অবিলম্বে হস্তক্ষেপ চান। তবে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।’’
প্রধান বিচারপতি বলেন, “রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। এরপর স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ডিজিপিকে একটি গ্রুপ কলে আনা হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি৷”
আদালত উল্লেখ করেছে যে এর পরেও জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, ‘‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ সুপার কেউই সেখানে পৌঁছননি। প্রধান বিচারপতিকে ব্যক্তিগতভাবে ডিজিপি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়েছিল৷” মুখ্যসচিব, পুলিশ ডিজিপি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবসহ রাজ্যের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের ভূমিকার এদিন তীব্র সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
