তৃণমূল সূত্রে খবর, ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের মূল দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দলের দুই সিনিয়র নেতা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উপর৷ ভবানীপুরের আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে সাতটিতেই প্রচারের দায়িত্ব রয়েছে এই দু জনের উপরে৷ শুধুমাত্র ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী জাভেদ খানকে৷ তিনি নিজের আবার কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী৷ প্রচার থেকে জনসংযোগের যাবতীয় ভার থাকবে এই তিন জন নেতার উপরেই
advertisement
শেষ কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূল সহজ জয় পেলেও শাসক দলের কিছুটা চিন্তা বাড়িয়েছে গত তিনটি লোকসভা নির্বাচনের ফল৷ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভবানীপুর বিধানসভায় এগিয়েই ছিল বিজেপি৷ এর পর ২০১৯ এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও ৬৩ নম্বর সহ ভবানীপুরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷ এর মধ্যে অন্যতম ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড৷
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টিতে বিজেপি এবং ৩টিতে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে ছিল।
গত লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে বিজেপি যে ওয়ার্ডগুলিতে এগিয়ে ছিল, সেগুলি হল মূলত ভবানীপুর এলাকার ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ ও ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড৷ এই ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপি প্রার্থী ভাল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের আধিপত্য বজায় ছিল৷ ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি-র থেকে ১৪৬৮ ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল৷ তবে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি ভোটে লিড পেয়েছিল৷
তৃণমূল সূত্রে খবর, গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করার পর দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷ ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের আর এক মন্ত্রী এবং কসবার তৃণমূল প্রার্থী জাভেদ খানকে৷
তৃণমূল সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত হলেও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়ার সরণীর মতো অভিজাত এলাকাগুলি পড়ে৷ অতীতেও ওই এলাকায় নির্বাচনের দায়িত্ব সামলেছেন জাভেদ খান, সুব্রত বক্সিদের মতো সিনিয়র নেতারাই৷ বিধানসভা নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ে দলনেত্রীকে জিতিয়ে আনতে তাই পুরনো সৈনিকদের উপরেই ভরসা রাখল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব৷ তাই নিজের বিধানসভা কসবা এলাকায় প্রচার সামলে ভবানীপুরেও মন দিতে হবে জাভেদকে৷
