নিউ টাউনের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের ঘটনায় দু দিন আগেই বারাসত জেলা জজ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন৷ এ দিন বারাসত আদালতের নির্দেশ মতো বিধাননগর এসিজেএম আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত বিডিও৷ ২৫ হাজার টাকার দুটি সিকিউরিটি বন্ডের বিনিময়ে জামিন পান তিনি৷ আদালতের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে দু দিন প্রশান্ত বর্মনকে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা দিতে হবে৷
advertisement
জামিন পাওয়ার পরেও এ দিন সংবাদমাধ্যমকে এড়াতে দীর্ঘক্ষণ আদালতের ভিতরে বসেছিলেন প্রশান্ত বর্মন৷ শেষ পর্যন্ত আদালতের বাইরে বেরনোর সময় স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজগঞ্জের বিডিও-কে প্রশ্ন করে সংবাদমাধ্যম৷ তখনই পাল্ট সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে উল্টে অভিযুক্ত বিডিও বলেন, সংবাদমাধ্যমকে শ্রদ্ধা করি৷ কিন্তু তাই বলে বিচারকের ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করবেন না৷ তিনি অভিযুক্ত না হলে কেন আগাম জামিন চেয়ে আদালতে এলেন, সেই প্রশ্নও করা হয় বিডিও-কে৷ তাঁর পাল্টা জবাব,বিচারাধীন বিষয়ে কিছু বলব না৷ আমি উত্তর না দিলে কি আমাকে গ্রেফতার করে রেখে দেবেন?
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২৮ অক্টোবর নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে৷ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ সূত্রের খবর, এই ঘটনায় রাজগঞ্জের বিডিও-র সরাসরি যুক্ত থাকার একাধিক প্রমাণও পুলিশের হাতে এসেছে৷ তার পরেও অভিযুক্ত বিডিও-কে পুলিশ গ্রেফতার না করায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল৷ শেষ পর্যন্ত জামিনই পেয়ে গেলেন অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন৷
বিডিও-র আগাম জামিন আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন সরকারি আইনজীবী৷ আদালতের ভিতরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর স্ত্রীও৷ তার পরেও অবশ্য বারাসত জেলা কোর্টে অভিযুক্ত স্বপন কামিল্যার জামিন আটকায়নি৷ সরকারি আইনজীবী এমনও দাবি করেন, অভিযুক্ত বিডিও জামিন পেলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে৷ স্বর্ণব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় বিডিও-র নাম সামনে আসতেই রাজগঞ্জের অনেকেই প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন৷ ঘটনাচক্রে, গত কয়েক দিনে রাজগঞ্জেও অভিযুক্ত বিডিও-র বিরুদ্ধে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সবাই৷
