শুক্রবারই বলেছিলেন ভবানীপুরে বাদ যাওয়া ‘বৈধ’ ভোটারদের সামনে আনবেন। শনিবার মঞ্চে আনলেন ভবানীপুরের ৪৩ পরিবারের সদস্যদের৷ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় মঞ্চে উপস্থিত ব্যক্তিদের দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘‘এরা লক্ষ্মীর ভান্ডারকে ভয় পায়৷ ঘরের মেয়েদের বাদ দিলে, কেউ রক্ষা করবে নাসব নথি দেখিয়ে লাভ হয়নি। তাই আপনাদের কাছে নথি দেখাতে এসেছে। বিচারের দাবিতে এরা এসেছে। এদের জন্যেই আমাদের আন্দোলন৷’’
advertisement
মমতা বলেন, ‘‘এক কোটি ২৫ লক্ষ মানুষ কাঁদছে। অন্যয় কে করল? কেন এদের সব নথি থাকা সত্ত্বেও সব ভ্যানিশ করা হল। শুধু বিজেপির ভোট থাকবে? সাধারণের ভোট নেই৷ বিএলএ থেকে বিডিও সবার নাম কেটেছে৷ ’’
মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকাপ্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রথম দফায় প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে মোট প্রায় ৪৭,০৯৪ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। পাশাপাশি, আরও প্রায় ১৪,১৫৪ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের নাম স্থায়ী ভাবে তালিকাভুক্ত হবে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। মোট সংখ্যাটা প্রায় ৬১,২৪৮৷
সম্প্রতি কমিশন ও কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘আমি শক্ড (স্তম্ভিত), এরা অমানবিক, ভিনডিকটিভ কাজ করছে। ভীরু মানুষ পিছন থেকে লড়াই করে। ওরা জেনেশুনে নাম কেটেছে। আমার ভবানীপুর বিধানসভা ছোট একটি কেন্দ্র। আমার কেন্দ্র থেকে ৬০ হাজার ভোটারের নাম কাটা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও আমি বলছি, আমি ভবানীপুর থেকে জিতব, এক ভোটে হলেও জিতব।’’ তৃণমূলের অভিযোগ, এই সংখ্যার অনেকেই ‘বৈধ’ ভোটার৷ এদিন নাম বাদ যাওয়া এমন কিছু ভোটারদের সামনে আনেন।
এরপরই জনতার দরবারে বিচার চেয়ে তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “জনগনের সামনে প্রমাণপত্র নিয়ে এসেছি। ওরা সুপ্রিম কোর্টের রায় অমান্য করছে। সবার আধার কার্ড আছে। বিজেপি বলছে বলে নাম ভ্যানিশ করছে। ওরা বিজ্ঞাপন দেয় ভোটারদের নিয়েই গণতন্ত্র। তাহলে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে কেন? ভারতের জনগণকে জবাব দিতেই হবে।”
প্রসঙ্গত, এদিনের ধরনা মঞ্চ থেকে ‘যুবসাথী’ নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ যুবসাথী প্রকল্প ও ভূমিহীন খেতমজুর দুই নতুন প্রকল্পের টাকা আর পয়লা এপ্রিল থেকে নয়, আজ শনিবার থেকেই সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বলে জানিয়েছেন মমতা।
