আপনার যাত্রা শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই আপনি অনুভব করবেন যে আপনার যত্নের ধরনে একটি পরিবর্তন এসেছে। সমস্ত সংরক্ষিত কোচে অন-বোর্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং এসি কোচে বেডরোল বিতরণের জন্য বিশেষ জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। এই কর্মীরা কেবল আড়ালে কাজ করেন না; যাত্রা শুরু হওয়ার পরেই তারা যাত্রীদের সঙ্গে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দেন। আপনার সুবিধার্থে সমস্ত সংরক্ষিত কোচে উজ্জ্বল স্টিকার লাগানো হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা আপনাকে বিভিন্ন পরিষেবার উপলব্ধতা সম্পর্কে অবহিত করেন। এই স্টিকারগুলিতে ডিভিশনাল ক্যারেজ কন্ট্রোলের মোবাইল নম্বর দেওয়া থাকে। ফলে আপনার কোচে সাফাই, পরিষ্কার বিছানা বা জলের প্রয়োজন হলে সাহায্য এখন মাত্র একটি ফোন কলের দূরত্বে।
advertisement
আপনি যাতে একটি নির্মল পরিবেশে ঘুম থেকে উঠতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে নিবিড় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। তবে এর বাইরেও যাত্রীদের যেকোনো প্রয়োজনে কর্মীরা যেকোনও সময় পরিষেবা দিতে প্রস্তুত থাকেন। পর্দার আড়ালে রেলওয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিষেবার মান বজায় রাখে। চুক্তিবদ্ধ সাফাই কর্মীদের হাজিরা যাত্রা শুরুর স্টেশনে, গন্তব্য স্টেশনে এবং যাত্রাপথে অন্তত একবার ‘ক্লিন রেল’ (Clean Rail) অ্যাপের মাধ্যমে কঠোরভাবে রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়াও, ক্যারেজ কন্ট্রোল সরাসরি ট্রেনের OBHS সুপারভাইজারের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যাত্রীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে, যা কর্মীদের সতর্কতা এবং তৎপরতা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন– হরমুজ নিয়ে ইরানের সঙ্গে বড় চুক্তি ! পাকিস্তান পেল ‘মধ্যস্থতার’ পুরস্কার, হতবাক বিশ্ব
পরিষেবার এই উচ্চমান বজায় রাখতে রেল আধিকারিকরা চুক্তিবদ্ধ OBHS কর্মীদের জন্য নিয়মিত কাউন্সেলিং সেশনের আয়োজন করেন, যাতে তারা ‘রেল মদত’ (Rail Madat) অ্যাপের মাধ্যমে আসা অভিযোগ এবং যাত্রীদের ফিডব্যাক সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। নিয়মিত পরিদর্শনে সাফাই কার্যক্রম তদারকি করা হয় এবং কোনও অসন্তোষজনক কাজের জন্য চুক্তিতে কঠোর জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। এটি নিশ্চিত করে যে আপনার আরামের জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্মীরা নিবেদিতপ্রাণ থাকেন।
বেডরোল সরবরাহ এবং কোচের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার এই প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন যে, ‘‘যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। OBHS প্রকল্পের যথাযথ রূপায়ণ এবং ‘ক্লিন রেল’ অ্যাপের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিরন্তর পর্যবেক্ষণের ফলে আমরা প্রতিটি যাত্রীর জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করছি। আমাদের লক্ষ্য হল পূর্ব রেলের প্রতিটি সফরকে একটি স্মরণীয় এবং ঝামেলামুক্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে গড়ে তোলা।’’
