হরমুজ নিয়ে ইরানের সঙ্গে বড় চুক্তি ! পাকিস্তান পেল ‘মধ্যস্থতার’ পুরস্কার, হতবাক বিশ্ব
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
Hormuz Strait Pakistan Iran Deal : পাকিস্তান এই চুক্তিটিকে শুধু একটি জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক খেলার অংশ হিসেবে দেখছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার ইরানের প্রচেষ্টার মধ্যে পাকিস্তান একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার ফলে ২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে একটি স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। চুক্তিটি ঘোষণা করে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, এই ব্যবস্থার ফলে প্রতিদিন দুটি জাহাজ যাতায়াত করতে পারবে।
advertisement
তিনি এটিকে একটি ‘শান্তির চিহ্ন’ এবং একটি ‘গঠনমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। উল্লেখ্য যে, ইসহাক দার তাঁর বিবৃতিতে সরাসরি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘজিকে ট্যাগ করেছেন। এটি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, পাকিস্তান এই চুক্তিটিকে শুধু একটি জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক খেলার অংশ হিসেবে দেখছে। (Photo: AP)
advertisement
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ বন্ধ: প্রকৃতপক্ষে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ ইরানের উপর মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর হরমুজ প্রণালী কার্যত থেমে গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইরানের ইসলামিক রেভেলিউশনরি গার্ড কর্পস (IRGC) হরমুজকে একটি চেকপয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করছে। এখন, জাহাজগুলোকে প্রবেশের আগে তাদের পণ্য, নাবিক এবং গন্তব্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করতে হয়। একটি ছাড়পত্র কোড পাওয়ার পরেই তাদের ইরানি নজরদারির অধীনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, এই বিশেষ সুবিধার জন্য কিছু জাহাজের কাছ থেকে ২০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হয়। (Photo: AP)
advertisement
এক মাসে মাত্র ১৫০টি জাহাজ যাতায়াত: আল জাজিরার তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথ দিয়ে মাত্র ১৫০টির মতো জাহাজ চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সামগ্রিকভাবে সামুদ্রিক যান চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে, পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনীতি এই সঙ্কটে দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এনে দিয়েছে। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ৷ অন্য দিকে, ইসহাক দার ইরান ও তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। (Photo: AP)
advertisement
পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং ইসলামাবাদ এই পুরো ঘটনায় নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুসারে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবিও বলেছেন যে, উভয় পক্ষ ইচ্ছুক হলে পাকিস্তান আলোচনা আয়োজন করতে প্রস্তুত। এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন এবং তাঁকে শান্তি প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবহিত করেছেন। (Photo: AP)
advertisement
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই চুক্তিটি কেবল জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধারের একটি প্রচেষ্টাই নয়, বরং পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয়ও বটে। এটা বলা ভুল হবে না যে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে পাকিস্তান ইরানের কাছ থেকে একটি ‘পুরস্কার’ হিসেবে এই স্বস্তি পেয়েছে, যা তাঁকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করার সুযোগ করে দিয়েছে। (Photo: AP)






