চলন্ত ট্রেনে ওঠার সময় একজন যাত্রীকে একসঙ্গে লড়তে হয় ট্রেনের গতিবেগ, নিজের ভারসাম্য এবং প্ল্যাটফর্ম ও লাইনের মাঝের বিপজ্জনক ফাঁকের সঙ্গে। সামান্য পা হড়কানো বা ভারসাম্য হারালেই মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সেই ঝুঁকিকেই সামনে এনে দিয়েছে।
আর কোনও উপায় নেই? ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ ট্রাম্পকে কেবলমাত্র দুটি বিকল্পের সামনেই দাঁড় করিয়ে দিল!
advertisement
৪ গ্রহের বিরল সংযোগ এপ্রিলেই! কেরিয়ারে বিরাট সাফল্য, ভাল সময়, এপ্রিলেই কপাল খুলবে কোন ৫ রাশির?
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ দমদম জংশনে এক যাত্রী ল্যাগেজ-সহ লাইনের ফাঁকে পড়ে যাওয়ার আগে উদ্ধার পান। ১৭ নভেম্বর, ২০২৫-এ জসিডি স্টেশনে চলন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে গিয়ে পিছলে যাওয়া এক যাত্রীকে বাঁচানো হয়। ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ ভাগলপুরে এক মহিলাকে লাইনে পড়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার করা হয়। ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬-এ সাহেবগঞ্জে এক মা ও শিশুকে রক্ষা করা হয়, এবং ২৪ জানুয়ারি জসিডিতে এক তরুণী অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন।
ফেব্রুয়ারি মাসেও একই ছবি। ২ ফেব্রুয়ারি বিধাননগরে এক যাত্রী চলন্ত ট্রেন থেকে ঝুলতে থাকেন এবং তাকে টেনে তোলা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ লাইনে পড়ে গেলে জরুরি ব্রেক কষে তাকে বাঁচানো হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি সুলতানগঞ্জে এক বৃদ্ধকে চলন্ত কোচ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এই সমস্ত ঘটনায় রেল সুরক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বড় দুর্ঘটনা এড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—কেন বারবার এই ঝুঁকি নিচ্ছেন যাত্রীরা?
পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরপিএফ সর্বদা সতর্ক থাকলেও যাত্রীদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁর কথায়, চলন্ত ট্রেনে ওঠা বা নামা কখনোই উচিত নয়। প্ল্যাটফর্ম অপেক্ষার জায়গা, রেললাইন শুধুমাত্র ট্রেনের জন্য। কয়েক মিনিট দেরি হলেও তা জীবনের চেয়ে বড় নয়—এই বার্তাই বারবার তুলে ধরছে রেল কর্তৃপক্ষ।
