সোমবার তিনি বলেন, ”আমি কংগ্রেসেরই লোক। ২০২১ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার তৈরি করার জন্য তৃণমূল একমাত্র শক্তি, সেটা বোঝানো হয়েছিল। সেদিন যাঁর অনুরোধে গিয়েছিলাম, আজ তাঁদের মধ্যে আর বিজেপি পার্টির মধ্যে কোনও ফারাক দেখতে পারছি না। আমি যেদিন তৃণমূলেও যোগ দিয়েছিলাম, সেদিনও এবং তারপরও কখনও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোনও শব্দ ব্যবহার করিনি।”
advertisement
কাজি আব্দুল রহিমের সংযোজন, ”তৃণমূলের বিধায়ক ছিলাম, তার আগে কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলাম। সেদিন আমি আবেদন করে যাইনি। সেদিন বিজেপিকে আটকাতে গিয়েছিলাম। আজও এখানে একই কারণে এসেছি। টিকিট দেয়নি ঠিকই। কিন্তু আমি তার আগে থেকেই জানতাম। আমি তৃণমূলে বড় অযোগ্য। আমি আগেও সেটা জানিয়েছিলাম। ঘরে ফেরার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম।”
প্রসঙ্গত, তৃণমূল ছাড়ার আগে দলের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে তিনি সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২১ সাল দলের কঠিন সময়ে যারা দল করেছে তাঁদের টিকিট দেওয়া হয়নি। উল্টে এতদিন দলের বিরোধিতা করা লোকজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। রহিম লিখছেন, “আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত। আমি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে—অন্যায়ের সঙ্গে আপোস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকা। সেই কারণেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম । আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব—এটাই আমার অঙ্গীকার।” এবার তিনিই যোগ দিলেন কংগ্রেসে।
