মুম্বই: বিজেপির প্রাক্তন মুখপাত্রকে বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। আর তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি৷ একই সঙ্গে, এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছে তারা৷ বিরোধীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতায় প্রভাব ফেলবে।
advertisement
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট অজিত ভগবন্তরাও কাদেঙ্কর, আরতি অরুণ সাঠে এবং সুশীল মনোহর ঘোদেশ্বরের নাম বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে অনুমোদন করেছে। এই তিনজনের মধ্যে, আরতি সাঠে বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷ যদিও গেরুয়া শিবিরের দাবি, তিনি গত বছরই দলের ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ‘মহাজনদের মতো টাকা অন্য জায়গায় খাটিয়েছে’! ডিএ মামলায় বিস্ফোরক মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের! আজই বিরাট সিদ্ধান্ত?
আর এরপরই আসরে নেমেছে বিরোধীরা। তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে লেখেন, ”আর কতটা নগ্ন হবে আমাদের সিস্টেম? বোম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন আরতি সাঠে। এই আরতি সাঠে ছিলেন মহারাষ্ট্রে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র! বাংলায় বিচারপতি ইস্তফা দিয়ে বিজেপির সাংসদ হন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিচার দেওয়ার পর রাজ্যসভার সাংসদ হন, আর এখন সবকিছু ছাড়িয়ে সরাসরি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র বিচারপতির আসনে আসীন হচ্ছেন! এরপরেও যদি কেউ বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাকে কি আদালত অবমাননার দায়ে জেলে নিয়ে যাওয়া হবে?”
এদিকে, এক্স হ্যান্ডেলে এ বিষয়ে পোস্টে করে এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-এর বিধায়ক রোহিত পাওয়ার একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন ৷ যেখানে দেখা যাচ্ছে আরতি সাঠের নাম বিজেপির মুখপাত্রদের তালিকায় রয়েছে ৷ স্ক্রিনশটে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন দলের সভাপতি চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে মহারাষ্ট্র বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে আরতি সাঠের নিয়োগপত্র দিয়েছেন বলেও দেখা যাচ্ছে ৷
বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে আরতির নিয়োগ অনুমোদনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতির ছবিও রোহিত পওয়ার দেখিয়েছেন ৷ তিনি লিখেছেন, “আরতি সাঠের এই পদোন্নতি বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে। একজন ব্যক্তি যিনি মঞ্চ থেকে শাসকদলের পক্ষে ওকালতি করেন তাঁকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় আঘাত। এর ফলে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। কেবল বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতা থাকা এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরাসরি বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা- এটি কি বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিণত করার সমতুল্য নয়?”
