কোনও কর্মীকে যুক্ত বা বাদ দেওয়ার সুবিধা থাকবে। টাকা ট্রান্সফারের প্রয়োজনীয় ফর্মও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে। গ্রুপ-D ও প্রাক্তন কর্মীদের ক্ষেত্রে টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে যাবে। নির্দেশিকা জারি করে জানানো হল নবান্নের তরফে।
আরও পড়ুন: পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা! শুনেই এ কী বললেন দিলীপ ঘোষ! ‘যোগ্য জবাব’ কে পাবেন?
রাজ্যের কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর কথা দিন কয়েক আগেই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক ৫৫ মিনিট আগে সকলকে চমকে দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে তাঁর একটি পোস্ট হাসি ফোটায় প্রায় ১২ লক্ষ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীর মুখে।
advertisement
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, মার্চ মাস থেকেই ২০০৯ সালের রোপা অনুযায়ী বকেয়া ডিএ’র টাকা দেবে রাজ্য। তবে শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনার নয়, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাবেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা সহ রাজ্যের অধীনে থাকা স্বশাসিত সংস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মচারীরাও।
বকেয়া ডিএ নিয়ে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে স্টেট অ্যাডমিনস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ। দীর্ঘ ১০ বছরের আইনি লড়াইয়ে জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ পরবর্তী ছ’সপ্তাহ, অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানোর নির্দেশ দেয় রাজ্যকে। বাকি ৭৫ শতাংশ কবে, কীভাবে, কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় শীর্ষ আদালত।
যদিও এসবের মাঝেই এই ২৫ শতাংশ মেটানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছিল রাজ্য। ফলে সব মহলই ধরে নিয়েছিল, নির্বাচনের আগে বকেয়া ডিএ পাওয়া যাবে না। আবার কয়েকদিন আগে বকেয়া ডিএ হিসাবের জন্য প্রয়োজনীয় ই-সার্ভিস বুক আপডেট করার নির্দেশ দেয় রাজ্য অর্থদফতর। সেই পদক্ষেপ আবার বকেয়া পাওয়ার আশা জাগিয়ে তোলে কর্মীদের মধ্যে। এমন ঘটনাক্রমের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর আচমকা ঘোষণা। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মতো ছ’সপ্তাহের মধ্যেই ডিএ দেওয়ার কাজ শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। স্বাভাবিকভাবেই কর্মী-আধিকারিক মহলে খুশির হাওয়া।
