সিপিএম নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ‘বলা হচ্ছে প্রতীক উর তৃণমূলের সঙ্গে ডিল করেছেন৷ কী ডিল? বলছে বিধানসভা ভোটে টিকিট পাচ্ছে৷ প্রতীক উর নিজে আমাকে বলেছে দাদা দল আমাকে টিকিট দিলেও নেবো না৷ একটা ছেলেকে আগে থেকে গদ্দার, বেইমান বলে দিলেন৷ কারণ আপনাদের স্তাবকে পরিণত হয়নি৷ সংবাদমাধ্যমে স্নো পাউডার মেখে বলে বেড়াচ্ছে প্রতীক উর ডিল করেছে৷ ও আমাকে নিজে বলেছে দাদা সংগঠনের কাজ করতে চাই৷ দল আমাকে বিধানসভা ভোটে টিকিট দিলেও লড়ব না৷ এটা না বললে আমার বিবেকে লাগত৷ এটা আমি বলতাম না৷ কিন্তু ভাল কর্মী কোথায় পাবেন? একটা ছেলে যাঁর রাজনীতি থেকে চাওয়া পাওয়া নেই৷ আলিমুদ্দিনের নেতারা সার্টিফিকেট দেবে তার পর বামপন্থী হিসেবে গণ্য করা হবে? নাকি মানুষের জন্য যে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করতে চায়, সে প্রকৃত বামপন্থী? সিপিএম নেতাদের কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ঘরের ছেলেকেই সিপিএম চিনতে পারেনি!’
advertisement
রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নেও সিপিএম-কে জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক৷ অভিষেক বলেন, ‘কোন আদর্শের ভিত্তিতে আপনি হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন জোট করেন? কোন আদর্শের ভিত্তিতে ২০২১-এ কেরলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ছেন আর বাংলায় জোট করছেন? কোন আদর্শের ভিত্তিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পকে ভিক্ষা বলছেন? কোন আদর্শের বিরুদ্ধে কম্পিউটার বন্ধ করেন? চারটে বিশ্ববিদ্যালয়, দুটো সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরি করেননি? আমাদের আদর্শ প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন৷’
সদ্য প্রাক্তন দলের নেতৃত্বকে আক্রমণ করে প্রতীক উরও বলেন, ‘আমার নীতি বিজেপি-কে আটকাবো, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে আটকাবো৷ বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেবো না৷ এটাই ডিল৷ আমরা তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেমূল বলতাম৷ অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রাই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এসআইআর নিয়ে লড়াই করল৷ আর মহম্মদ সেলিম ওয়েলেফয়ার পার্টির নেতাদের আলিমুদ্দিনে নিয়ে এসে বৈঠক করলেন, হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করছেন, এটা ডিল?’
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেকের বিরুদ্ধেই প্রার্থী ছিলেন প্রতীক উর৷ নিজের সেই প্রতিপক্ষকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘প্রতীক উরকে ধন্যবাদ জানাবো সাহস দেখিয়ে সিপিএমের বেড়াজাল ভেঙে এসে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন৷ এতে আমার কোনও উদারতা নেই৷ সে চাইলে আজকে ওখানেই থাকত৷ প্রতীক উর সৎ সাহস দেখিয়েছে৷’
