নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে বাইক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাঁচ বছরের দীপশিখা চক্রবর্তীর। হাসপাতালে মৃত্যু হয় শিশুর বাবা প্রভাত চক্রবর্তীর ও তাঁর বন্ধু গৌতম পাত্রের। মৃত বাবা ও মেয়ে বেলেঘাটার কাদাপাড়ার বাসিন্দা। গৌতম পাত্রের বাড়ি শ্যামনগরে।
বাবা বয়সে বড়, তাই তাঁর মাথার দাম হয়ত সত্যিই বেশি। বেলেঘাটার কাদাপাড়ার বাসিন্দা প্রভাত চক্রবর্তীর মাথায় হেলমেট থাকলেও, ছোট্ট দীপশিখার মাথা ছিল খালিই। যার খেসারত দিতে হল প্রাণ দিয়েই।
advertisement
অবশ্য হেলমেট পড়েও রক্ষা পেলেন না প্রভাত চক্রবর্তী ও তাঁর বন্ধু গৌতম পাত্র। পেশায় লিফটম্যান প্রভাত পাঁচ বছরের মেয়ে ও বন্ধুকে নিয়ে নিউটাউনে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে সামনে হঠাৎই গরু চলে আসায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে বাইক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দীপশিখার। বিধাননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় প্রভাত এবং গৌতমের।
মায়ের সঙ্গে বাবার বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। তাই বাড়িতে মা থাকতেন না। বাবা, ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গেই থাকত ক্লাস ওয়ানের দীপশিখা। হাসিখুশি গুজি-ও ছিলও সবার আদরের। বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ফিরে টিউশনও পড়ে সে। এরপরই বাবার সঙ্গে ঘুরতে বেরোয় গুজি। কিন্তু আর ফেরা হল না। ছেলে-নাতনিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ দম্পতি। গুজির জন্য যেন এখনও অপেক্ষায় আছে তাঁর সর্বক্ষণের এই দুই সঙ্গী টেডি ৷
নিউটাউনের আকাঙ্খা মোড়ে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাবা-মেয়ের। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন গোটা পরিবার ৷
SAFE DRIVE-SAVE LIFE, আজ রাজ্যবাসীর মুখে মুখে। কিন্তু সচেতনতার কথা আর খেয়াল থাকে ক'জনের? কেউ আবার নিজের কথা ভাবলেও, ভুলে যাচ্ছেন সন্তানের কথা। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দীপশিখার মতোই শিশুদের।
