বাংলাদেশী পণ্যের উপর শুল্কের হার ২০% থেকে কমিয়ে ১৯% করেছে আমেরিকা৷ নয়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন “পারস্পরিক” (রিসিপ্রোকাল) শুল্ক এক শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশ কিছু পণ্য শুল্কমুক্ত করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে৷ তবে রয়েছে শর্তও৷
এর আগে গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছিল। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেটি আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হল।
advertisement
এই চুক্তির আওতায় আমেরিকা নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যের শুল্কে ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে বলেই সূত্রের খবর৷ এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প কিছুটা স্বস্তি পাবে। চুক্তিতে এমন একটি ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্য সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে জানান, এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে সেইসব পণ্যের ক্ষেত্রে যেগুলোতে আমেরিকায় উৎপাদিত তুলা ও মানবসৃষ্ট তন্তু (ম্যান মেড ফাইবার) ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানিতে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বস্ত্র রপ্তানির পরিমাণের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। কেবলমাত্র বস্ত্র নয়, আরও কিছু পণ্যকেও শুল্কমুক্ত রাখতে পারে আমেরিকা৷ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষিপণ্য—যেমন রাসায়নিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, অটো পার্টস, জ্বালানি এবং কৃষিজ পণ্যের জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকার দেবে।
এছাড়া আমেরিকার পণ্য বিক্রিতে বাধা সৃষ্টি করা কিছু অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার মান অনুযায়ী অনুমোদিত যানবাহন গ্রহণ এবং মার্কিন সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ওষুধ আমদানির সুযোগ। বাংলাদেশ পরিবেশ, শ্রম এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষার বিষয়েও সম্মত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা একে অপরের বাজারে অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার পাবে।” হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে আরও বড় বাণিজ্যিক চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ ক্রয়, ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা এবং আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে বস্ত্র ও পোশাক খাত থেকে। ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক আন্দোলনে সরকার পতনের পর এই খাতটি বড় ধাক্কা খায় এবং বর্তমানে পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
