সভায় শেখ হাসিনা নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “মানসিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিন। এবার সবাইকে দেশে ফিরতে হবে এবং মাঠে নামতে হবে।” তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যাঁরা কমিটির সদস্য নন, তাঁরাও আলোচনায় অংশ নেন।
advertisement
বৈঠকে বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। একাধিক নেতা দাবি করেন, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন ছিল প্রহসন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে অবস্থানকালে নির্বাচনকে ভাল বলেছেন, অথচ নিজ দেশে ফিরে ভিন্ন রিপোর্ট দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের দ্বিমুখী অবস্থানের উপর নির্ভর না করে নির্বাচনকে কেন প্রহসন বলা হচ্ছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি নির্বাচনী ফলাফলের বিশদ বিশ্লেষণের নির্দেশও দেন। হাসিনার দাবি, ভোট বয়কটের আহ্বানে দেশের মানুষ সাড়া দিয়েছে।
দেশে ফেরার বার্তা শেখ হাসিনার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে!
এরপর শেখ হাসিনা বিএনপি সরকারের নাম না করে বলেন, বর্তমান সরকার যেন আওয়ামী লিগের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। তাঁর দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা অবৈধ এবং ভিত্তিহীন। তিনি স্পষ্ট করেন, যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে আওয়ামী লিগ নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেবে এবং কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের দিন থেকেই আওয়ামী লিগ ভোটদানের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। দলের বক্তব্য, ৬০ শতাংশ ভোটদানের হিসাব বিশ্বাসযোগ্য নয়। অতীতের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে হাসিনা বলেন, আগেও ভোট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর অভিযোগ, এবারও নির্ধারিত তারিখের আগেই ব্যালট বাক্স পূরণ করা হয়েছে।
বৈঠকে আওয়ামী লিগের কার্যক্রমের ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও উঠে আসে। শেখ হাসিনা জানান, এই নিষেধাজ্ঞা দুটি কারণে অবৈধ। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাস দমন আইনে নিষিদ্ধ করার মতো কোনও অপরাধ আওয়ামী লিগ করেনি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারই ছিল অবৈধ, ফলে তাদের নির্দেশও বৈধ হতে পারে না। বর্তমান সরকার এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তা না হলে দল নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও ইঙ্গিত দেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নেতাদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিতে বলায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ইতিবাচক বার্তার ইঙ্গিত থাকতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, হাসিনার বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট ছিল। তিনি দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে না।
এ দিনের বৈঠকে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন না। অসুস্থতার কারণে তিনি যোগ দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, সাইফুল আলম নাদেল, মির্জা আজম এবং মইবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।
