ক্ষতস্থান চেটে দিয়েছিল পোষ্য কুকুর, এর পরেই ৬ বার হার্ট অ্যাটাক! বিষক্রিয়ায় নীল হয়ে বাদ গেল মহিলার ৪ অঙ্গ!
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
মনজিৎ সাংঘা সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে চারটি অঙ্গ হারান। পোষ্য কুকুরের চেটে দেওয়া থেকে সংক্রমণ ছড়ায়. দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাড়ি ফেরেন, সতর্কবার্তা দেন সবার জন্য!
মনজিৎ সাংঘার কাছে দিনটা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কাজ থেকে ফিরে তিনি প্রতিদিনের মতোই তাঁর পোষ্য কুকুরের কাছে বসেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয়। তিনি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন, ঠোঁট বেগুনি রঙ ধারণ করে, হাত হয়ে যায় বরফশীতল, শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট শুরু হয়। ৫৬ বছর বয়সি সাংঘাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর হৃদ্যন্ত্র ছয় বার কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
দীর্ঘ ৩২ সপ্তাহ পর তিনি বাড়ি ফিরেছেন বটে, কিন্তু তাঁর জীবন চিরতরে বদলে গিয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাণ বাঁচাতে চারটি অঙ্গ কেটে বাদ দিতে হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হাতে থাকা একটি ছোট কাটা বা আঁচড়ে তাঁর পোষ্য কুকুর চেটে দেওয়ার পর সেখান থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে সেপসিসে পরিণত হয়ে থাকতে পারে।
advertisement
advertisement

কুকুরের চাটায় সংক্রমণ, মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই! সেপসিসে চার অঙ্গ হারালেন মহিলা, দিলেন সতর্কবার্তা—‘এটা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে’!
সেপসিস কী?
সেপসিস এমন একটি অবস্থা, যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং নিজেরই টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে শুরু করে।
advertisement
এটি একটি গুরুতর চিকিৎসাজনিত অবস্থা। ইউকে সেপসিস ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় সেপসিসে।
‘যে কারও সঙ্গেই হতে পারে’, সতর্কবার্তা মনজিতের
গত বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মনজিৎ সাংঘা। বিবিসিকে তিনি জানান, চারটি অঙ্গ হারানোর বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা এখনও চলছে তাঁর। তাঁর কথায়, “এই অভিজ্ঞতা ভাষায় বোঝানো কঠিন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজের হাত-পা হারানো একটা বিশাল আঘাত।”
advertisement
মনজিৎ সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর মতো ঘটনা “যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে” এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। তাঁর মন্তব্য, “এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়, একে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।”
তিনি জানান, আবার হাঁটতে শেখা এবং কাজে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর কথায়, “চেয়ার আর বিছানায় যথেষ্ট বসে থেকেছি। এখন আবার হাঁটার সময়।”
advertisement

কমলজিৎ, যিনি কাম সাংঘা নামেও পরিচিত, জানান মনজিৎ সাংঘার শারীরিক অবস্থার অবনতি অত্যন্ত দ্রুত হয়েছিল। তিনি বলেন, “শনিবার এক মুহূর্তে সে কুকুরের সঙ্গে খেলছিল, রবিবার কাজে গিয়েছিল, আর সোমবার রাতেই সে কোমায়।”
গত বছরের জুলাই মাসে এক রবিবার দুপুরে অসুস্থ বোধ করে বাড়ি ফেরেন মনজিৎ। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর হৃদ্যন্ত্র ছয় বার বন্ধ হয়ে যায়। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকদের তাঁর হাঁটুর নীচ থেকে দু’টি পা এবং দু’টি হাত কেটে বাদ দিতে হয়। পাশাপাশি প্লীহা অপসারণ করতে হয়। একই সময়ে তিনি নিউমোনিয়া ও পিত্তথলির পাথরের সমস্যার সঙ্গেও লড়াই করছিলেন।
advertisement
৬০ বছর বয়সি কমলজিৎ বলেন, “ও ভীষণ শক্ত মনের মানুষ। যা কিছু ওর সঙ্গে ঘটেছে, প্রতিদিনই আমাদের ভুল প্রমাণ করেছে।”
Location :
International
First Published :
Feb 24, 2026 5:11 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পাঁচমিশালি/
ক্ষতস্থান চেটে দিয়েছিল পোষ্য কুকুর, এর পরেই ৬ বার হার্ট অ্যাটাক! বিষক্রিয়ায় নীল হয়ে বাদ গেল মহিলার ৪ অঙ্গ!










