পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে, নাতানাজ পারমাণবিক কেন্দ্রে ফের হামলা; বাড়ছে উত্তেজনা
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পৌঁছেছে, এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানাজ আবারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে।
তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি আগেও হামলার শিকার হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে একাধিক ভবনের ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। তবে এর আগে International Atomic Energy Agency জানিয়েছিল, ওই হামলায় কোনো “রেডিওলজিক্যাল প্রভাব” পড়েনি।
advertisement
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump একদিকে সামরিক তৎপরতা কমানোর ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে অতিরিক্ত তিনটি অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ জাহাজ ও প্রায় ২,৫০০ মেরিন মোতায়েন করা হয়েছে অঞ্চলে।
এর মধ্যেই ইরানের তরফে বিশ্বজুড়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পাশাপাশি তেলের বাজারে চাপ কমাতে ইতিমধ্যেই জাহাজে তোলা ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলছে।
ফলে, ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে। ইজরায়েলের দাবি, শনিবার ভোরে ইরান নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলে—যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো রয়েছে—সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পারস্য নববর্ষ Nowruz-এর উদযাপনের মাঝেই তেহরানে ইজরায়েলি বিমান হামলা এই সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে International Atomic Energy Agency-এর প্রধান Rafael Grossi সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, এ ধরনের হামলা বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ক্রমাগত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষত পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ফলে এই সংঘাত আরও দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
