চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেছেন, তেহরান কোনও অবস্থাতেই সিজফায়ার বা যুদ্ধবিরতির নীতি গ্রহণ করবে না। তাঁর কথায়, “গত বছরের পরিস্থিতি ফের দেখতে চায় না ইরান”—অর্থাৎ সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর আবার সংঘাত ফেরার আশঙ্কা থেকেই এই কঠোর অবস্থান।
advertisement
আরাঘচির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে এবং সংঘাত ইতিমধ্যেই ২২ দিনে গড়িয়েছে। একাধিক ফ্রন্টে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সিজফায়ারের বিরোধিতা করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “যখন আপনি প্রতিপক্ষকে কার্যত ধ্বংস করে দিচ্ছেন, তখন সিজফায়ার করা হয় না।” তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, আপাতত যুদ্ধবিরতির কোনও সম্ভাবনা দেখছে না ওয়াশিংটনও।
রাজনীতি ছাড়বেন রিঙ্কু? ‘সবার জন্য নিয়ম এক হওয়া উচিত …’ ক্ষুব্ধ দিলীপজায়া টিকিট না পেয়ে যা বললেন!
শুধু তাই নয়, ন্যাটো জোটের ভূমিকাও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাতে জোটের সমর্থন যথেষ্ট নয়। ন্যাটোকে তিনি “কাগুজে বাঘ” বলে কটাক্ষ করেন এবং বলেন, আমেরিকা ছাড়া এই জোট কার্যত দুর্বল।
সব মিলিয়ে, একদিকে ইরানের অনমনীয় অবস্থান, অন্যদিকে মার্কিন নেতৃত্বের যুদ্ধমুখী সুর—এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ আপাতত অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরাঘচির বক্তব্য, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়েছে ইরান। সে সময় যুদ্ধবিরতি হলেও পরবর্তীতে সংঘাত আবার নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। তাই এবার শুধুমাত্র সাময়িক বিরতি নয়, স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা চায় তেহরান।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে “শূন্য সংযম” দেখাবে দেশ। ইতিমধ্যেই ইরান জানিয়েছে, তাদের প্রতিক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ নয়—প্রয়োজনে আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্তরে যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও তাতে তেমন অগ্রগতি নেই। মার্কিন প্রশাসনও এখনই কোনও সিজফায়ার চুক্তির পথে হাঁটতে রাজি নয় বলে খবর।
বর্তমান সংঘাত ইতিমধ্যেই বহু দেশকে প্রভাবিত করেছে। ইসরায়েলের হামলা, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ, এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিললেও, বাস্তবে দুই পক্ষই এখনও কঠোর অবস্থানে অনড়। ফলে যুদ্ধবিরতির বদলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই এখন প্রবল।
