এই পরিস্থিতির খবর পৌঁছায় নয়াপুট সুধীর কুমার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ইয়ের কাছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি গভীরভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এই শিশুরা শিক্ষার সুযোগ না পেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। এরপর তিনি দ্রুত উদ্যোগ নেন। তৎকালীন কাঁথি-১ ব্লকের বিডিও তুহিন কান্তি ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি তৎকালীন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজীর সঙ্গেও বিষয়টি আলোচনা করা হয়। প্রশাসনের অনুমতি ও সহায়তায় নয়াপুট হাইস্কুল এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটিকে দত্তক নেয়। এরপর নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করে সমুদ্র উপকূলের এই শিশুরা।
advertisement
প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ইয়ের এই উদ্যোগে নতুন আশার আলো দেখতে পায় শিশুরা। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি শিক্ষা কেন্দ্র আবার প্রাণ ফিরে পায়। শিশুদের স্কুলে ফেরানোর জন্য শিক্ষক ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই পদক্ষেপ শুধু পড়াশোনা নয়, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথও খুলে দেয়। নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুল প্রধান শিক্ষক বসন্ত কুমার ঘোড়ই বলেন, ‘এই শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। ওদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। ওরা যেন পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। খুব সাধারণ পরিবেশে, অনেক কষ্টের মধ্যে থেকেও ওরা শেখার আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি তাদের পাশে দাঁড়াতে।’
আরও পড়ুন-বিরল গ্রহের মহামিলনে কাঁপবে দুনিয়া…! চতুর্গ্রহী যোগে লটারি লাগবে ৪ রাশির, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা গুণে শেষ হবে না, খুলবে ভাগ্য
২০২৩ সালের মে মাস থেকে এই শিশু শিক্ষা কেন্দ্র দু’জন স্নাতক স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিকে নিয়মিত পাঠদান করে চলেছেন। বর্তমানে শিশুরা মাটিতে ত্রিপল পেতে বসে পড়াশোনা করে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকলেও তাদের শেখার আগ্রহে কোনও ঘাটতি নেই। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এগিয়ে এসেছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। তারা এই শিশুদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করছেন। ধীরে ধীরে সমুদ্র উপকূলের এই ছোট্ট শিক্ষাঙ্গনটি বদলাতে শুরু করেছে। নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ছোট ছোট এই মুখগুলো।





