গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথ আগ্রাসন শুরু করলেও ইরানের তেল রফতানি যুদ্ধপূর্ব সময়ের মতোই দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানের খারগ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বিশাল বিশাল ট্যাংকার (ভিএলসিসি) নোঙর করছে এবং পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এই তৎপরতা আরও বেড়েছে।
advertisement
উপসাগরীয় অন্য উৎপাদক দেশগুলোর তেল রফতানি কার্যত অবরুদ্ধ। কিন্তু ইরানের চিত্র ঠিক উল্টো। এমনকি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ওয়াশিংটন সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে দেশটির জন্য আরও সুবিধা হয়েছে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিচার্ড নেফিউ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানকে তেল বিক্রির জন্য তোয়াজ করছে। অথচ ইরানি তেল বিক্রি বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় ইরানি তেলের দামের ব্যবধান এখন মাত্র ২ ডলার ১০ সেন্ট।
যুদ্ধের আগে এই ব্যবধান ছিল ১০ ডলারের বেশি। এই বাড়তি আয় ইরানের বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম মজুত করতে বড় ভূমিকা রাখছে। ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরব যখন উৎপাদন কমায় বা বিকল্প রুটের সন্ধানে হিমশিম খাচ্ছে, ইরান তখন নির্বিঘ্নে খারগ দ্বীপ ও জাস্ক টার্মিনাল ব্যবহার করে তাদের তেল–বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। জাস্ক টার্মিনালটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় সেখান থেকেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে তেহরান। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি বাবদ দিনে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তি আয় করছে ইরান।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হামলা থেকে বেঁচে গেলেও কাতার, সৌদি ও আমিরাতের তেল-গ্যাসক্ষেত্রগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রফতানি কেন্দ্র কাতারের রাস লাফান স্থাপনায় বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইজরায়েলি হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরে আলোচনার কথা বলে সুর নরম করেছেন। তবে ইরান কোনও ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
