গানে তিনি বলেন, “ঐক্যের শক্তিই আমার জাতীয় শক্তি,” পাশাপাশি শোনা যায়, “অখণ্ড নেপাল, এবার ইতিহাস তৈরি হচ্ছে।” গানটি প্রকাশের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ৩৫ বছরের এই নেতা, যিনি তাঁর স্টাইলিশ পোশাক ও কালো সানগ্লাসের জন্য পরিচিত, নেপালের যুব-চালিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ৫ মার্চের নির্বাচনে তাঁর দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি) বিপুল জয়ের পর থেকে তিনি নীরবই ছিলেন।
advertisement
‘ধন্যবাদ ভারতবাসী’ ইরানের মিসাইলে কেন লেখা? ইজরায়েলের ওপর ৮৩তম দফার হামলা তেহরানের
এই নির্বাচন ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর প্রথম ভোট, যা তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। দুর্নীতিবিরোধী এই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ঘিরে শুরু হলেও, তা দ্রুত অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে জনরোষে পরিণত হয়।
গানে বালেন শাহ তাঁর দৃঢ়তা এবং লড়াইয়ের বার্তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার হৃদয় সাহসে ভরা, আমার রক্ত ফুটছে; আমার ভাইরা আমার সঙ্গে আছে, এবার আমরা উঠব।” পাশাপাশি বলেন, “আমার নিঃশ্বাস যেন না থামে, আমি চিতাবাঘের মতো দৌড়াব,”—এই কথাগুলির সঙ্গে প্রচারের ভিডিওও দেখানো হয়।
বিদায়ী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এখন তরুণ প্রজন্মের হাতে এবং তারা দুর্নীতি দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
৫ মার্চ অনুষ্ঠিত আগাম সাধারণ নির্বাচনে বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন আরএসপি নিরঙ্কুশ জয় পায়। ১৬৫টি আসনের মধ্যে সরাসরি ভোট এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব মিলিয়ে প্রায় ১২৫টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি, যা কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম। ২০২৫ সালের আন্দোলনের জেরে আগের জোট সরকার ক্ষমতা হারায়।
সুশীলা কার্কি আরও জানান, আন্দোলন দমনের ঘটনায় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। ফাঁস হওয়া খসড়ায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যিনি নির্বাচনে বালেন শাহের কাছে পরাজিত হয়েছেন।
এছাড়া প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংয়ের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলি চালানোর স্পষ্ট নির্দেশ না থাকলেও তা বন্ধে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। নিহতদের মধ্যে নাবালকরাও ছিল। ৬৩টি ময়নাতদন্তের মধ্যে ৪৮ জনের মৃত্যু গুলির আঘাতে হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বুকে বা মাথায় গুলি লেগেছে।
